kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

‘মজুদ সক্ষমতা কমিয়ে এলপিজি নীতি চূড়ান্ত হওয়ার পথে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপারেটরদের মজুদ সক্ষমতা পাঁচ হাজার টন থেকে কমিয়ে এলপিজি নীতির সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন নীতিতে অপারেটরদের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ফি কমানো, বিপিসির রয়ালটি বাতিলসহ নানা সংশোধনী আনা হয়েছে। এই সংশোধনী এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই তথ্য জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল মনসুর বলেন, ভোক্তার অধিকার রক্ষায় সরকার সব কিছু করতে প্রস্তুত, তবে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক স্বার্থও সংরক্ষণ করা হবে।

গতকাল শনিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত ‘ডিবেট অন এলপিজি প্রাইসিং : হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় এলপিজি অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিইআরসির দাম নির্ধারণের উদ্যোগ ভালো। কিন্তু অপারেটরদের খরচ, বিনিয়োগের লাভ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের লাভসহ সাতটি বিষয়ে খরচে তাদের হিসাব বিবেচনায় না নেওয়ায় এলপিজির দাম নির্ধারণ বিইআরসির একতরফা সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দাবির বিপরীতে পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞরা তথ্য-উপাত্তসহ বিষয়গুলো আগামী ৮ জুলাইয়ের গণশুনানিতে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

মূল প্রবন্ধে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব সেলস প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল বলেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণের সময় সাতটি উপখাতে ১৪৮ টাকা কম গ্রহণ করায় অপারেটররা বড় সংকটের মুখে পড়েছে। বিইআরসি এই বিষয়কে বিবেচনায় না নিলে এলপিজি খাতের চলমান সংকট আরো বাড়বে। সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ঝুঁকিতে পড়বে এই খাতের ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। 

বিইআরসির পরামর্শক ও বিপিসির সাবেক পরিচালক বসিরুল হক বলেন, বিইআরসির দাম নির্ধারণের কারণে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দাম নির্ধারণে কোনো অসংগতি থাকলে তিনি তা নিয়ে অস্থির না হয়ে অপারেটরদের তাদের দাবির যৌক্তিকতা আগামী গণশুননিতে তুলে ধরার পরামর্শ দেন।

বিইআরসির পরামর্শক ও বিপিসির আরেক সাবেক পরিচালক এ এইচ এম এ মাজেদ রাহিমী বলেন, বিইআরসি প্রাপ্ত সব খরচকে বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির জন্য বিক্রি দাম নির্ধারণ করেছে। অপারেটররাই এসব তথ্য সরবরাহ করেছে। এখন বলা হচ্ছে হিসাবে গরমিল আছে। কিন্তু তা সংশোধনে তো কোনো বাধা নেই। তাই অপারেটরদের আগামী গণশুনানিতে যথাযথ হিসাব উপস্থাপন করা উচিত।

এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স ইকুইপমেন্ট লিমিটেডের সিইও ইঞ্জিনিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, বিইআরসি এখন পর্যন্ত পাবলিক সেক্টরের কম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে থাকে। ফলে মাসে মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করার দক্ষতায় তাদের ঘাটতি আছে। উচিত চার মাস পরপর এলপিজির দাম সমন্বয় করা।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী খন্দকার আবদুস সালেক সূফি বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ ক্ষমতা বেশি থাকা এলপিজি খাতের জন্য বড় সংকট। এর বাজার সম্প্রসারণে সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এক ব্যবসার জন্য নানা অনুমতি নিতে ১৩ প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার নিয়ম বন্ধ করতে হবে।



সাতদিনের সেরা