kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

লকডাউনের জেলা বাড়ছে

ছয় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৩৪ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল একজন। বাকি আটজনের করোনা উপসর্গ ছিল। এটিই সাতক্ষীরায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সাতক্ষীরায় গতকাল শনিবার থেকে তৃতীয় দফার লকডাউন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১০ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৯ জন, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, খুলনায় তিনজন এবং জামালপুরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় বগুড়ায় গতকাল মধ্যরাত থেকে এবং খুলনায় আগামী মঙ্গলবার থেকে সাত দিন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারত সীমান্তবর্তী জামালপুর জেলায় দ্রুত বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও। চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় এ বছরের রেকর্ড ৭৬ জন (৩৯.৩৮ শতাংশ) সংক্রমিত হয়েছে। ফলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা এবং পাশের আলোকদিয়া ইউনিয়নে আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে ২৬ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত সাত দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে নাটোরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে।

সামেক হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনের করোনা টেস্টে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৬০.৮৭ শতাংশ। গতকাল সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন মো. হুসাইন শাফায়াত এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সাতক্ষীরায় এবারের লকডাউন বাস্তবায়নে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা সীমান্তে প্রতিদিন ভারত থেকে অবৈধ পথে রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ দেশে আসছে। বিজিবির কড়া নজরদারি ও অভিযানে এদের বেশির ভাগকে আটক করে কোয়ারেন্টিনে রেখে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন। গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৩৬৫ জন। আগের দিন ভর্তি ছিল ৩৪৯ জন। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, করোনা রোগীদের জন্য একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। এখন এ হাসপাতালের ১১টি ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া কেবিনে ১৫টি বেড আছে। সব মিলিয়ে ৩০৯টি বেডে করোনা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত ১৫টি বেড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে রোগী বাড়ছে সেভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নতুন নতুন ওয়ার্ড বাড়ানোয় অন্য রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় সবাই করোনা পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। এই সময়ে জেলায় নতুন করে ১১২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৩২ শতাংশ। হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার গতকাল বিকেলে বলেন, গত রাতে সাতজন আর আজ দুজন মারা গেছে। এটি কুষ্টিয়ায় এক দিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান করোনা পজিটিভ হয়ে নিজ বাসভবনে কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২১ জনসহ গতকাল ১৮৭ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিল।

জামালপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৪ জন। এক দিনে শনাক্তের হার ২৭.২৭ শতাংশ। গতকাল করোনায় তিন বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে জামালপুর সদর হাসপাতালে দুজন এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা হলো ৪২। এদিকে করোনা সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় জামালপুর পৌরসভা এলাকায় ১৪ জুন থেকে করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান লকডাউনে রাখাসহ ১০টি কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেন জেলা প্রশাসক। তবে শহরে তীব্র যানজট এবং মার্কেট, দোকানপাটে ব্যাপক ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধি-নিষেধ চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।

খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪৯ জন। নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্ত বিবেচনায় গতকাল খুলনায় আক্রান্তের হার ৩৮ শতাংশ। গতকাল বিকেল পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সাত দিনের জন্য খুলনা জেলা ও মহানগরে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা ও মহানগর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

বগুড়ার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে (গ্রামাঞ্চলসহ) করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বগুড়ায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়েছে। লকডাউনে বাসসহ কোনো যানবাহন বগুড়া শহরে ঢুকতে এবং শহর থেকে বের হতে পারবে না।

চুয়াডাঙ্গায় লকডাউন চলাকালে দূরপাল্লার বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং দোকানপাট বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। হোটেল খোলা থাকবে, তবে কেউ বসে খেতে পারবে না।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।]



সাতদিনের সেরা