kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

হাঁড়িভাঙ্গার হাট বসছে রংপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ রবিবার থেকে রংপুরের লালবাগ এলাকায় বসছে হাঁড়িভাঙ্গা আমের হাট। চলতি বছর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারে তোলার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বিগত বছরগুলোর মতো এবারও হাঁড়িভাঙ্গার ফলন নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। সব ঠিক থাকলে এ বছর শতকোটি টাকার বেশি আম বিক্রি হবে, আশা প্রকাশ করেন আম চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা। এদিকে আম বিক্রির জন্য আজ ‘সদয়’ নামে অ্যাপস চালু করার কথা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ছয় হাজার ৯৭৯ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আমের বাগান রয়েছে। এতে গাছের সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের জমি রয়েছে দুই হাজার ৫০০ হেক্টর। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন। মিঠাপুকুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, এক হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এই আমের দাম কিছুটা কম থাকলেও প্রতি কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম ৬০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাঁড়িভাঙ্গার জন্মভূমি বলে পরিচিত রংপুরের মিঠাপুকুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাষিদের কর্মযজ্ঞ। ধান-পাটসহ অন্য চাষাবাদের পরিবর্তে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে হাঁড়িভাঙ্গা এখন কৃষকের প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। বদরগঞ্জের কুতুবপুর, লোহানীপাড়া, শ্যামপুর ও ওসমানপুরের কয়েকজন আম চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এখানকার লালচে মাটিতে ধান, পাট, গম ও ভুট্টা চাষ করা হতো। গতানুগতিক চাষ পদ্ধতিতে তেমনভাবে ভাগ্যের পরিবর্তন হতো না কৃষকদের। কিন্তু গত এক দশকেই দিনবদলের হাওয়া লেগেছে এসব গ্রামে। হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষের সাফল্য ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত কৃষকের বাড়ির আঙিনা এবং জমির আইলেও লাগানো হয়েছে হাঁড়িভাঙ্গার চারা। চারা লাগানোর তিন বছরেই পাওয়া যায় আমের ফলন।

আম চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতেই বাগান নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন ব্যবসায়ীরা। এলাকায় এক হাজার গাছের নতুন বাগান তাঁরা ব্যবসায়ীদের কাছে এক বছরের জন্য বিক্রি করেছেন সাত লাখ টাকায়। আর এক হাজার ৪০০ বয়স্ক গাছের বাগান তিন বছরের জন্য বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ টাকায়।

ব্যবসায়ী আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, এই ব্যবসায় ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু শহর থেকে বাগানের দূরত্ব বেশি আর সহজ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিগুণ দামে আম পরিবহন করতে হয় তাঁদের। আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে আমের দামে বিপর্যয় দেখা দেয়। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হয় এই আম। তবে মৌসুম শেষে আম যখন কমতে থাকে, তখন হু হু করে বেড়ে যায় হাঁড়িভাঙ্গার দাম। মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রতি মণ আম বিক্রি হয় পাঁচ থেকে আট হাজার টাকায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম জানান,  মৌসুমের শুরুতে কিছুটা বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পুরনো গাছে মুকুল কম ধরলেও হাঁড়িভাঙ্গার ফলনে বিপর্যয় ঘটেনি।



সাতদিনের সেরা