kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাইক্রোবাসচাপায় এএসআই হত্যার দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাইক্রোবাসচাপায় এএসআই হত্যার দায় স্বীকার

চট্টগ্রামে মাদকবাহী মাইক্রোবাসচাপায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন গাড়িচালক মো. বেলাল। এই হত্যার নেপথ্যে জাহাঙ্গীর নামের এক মাদক কারবারির হাত রয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানান বেলাল।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি হলেন মো. রাশেদ ওরফে রাসেল (২৬) এবং তাঁর বাবা সামশুল আলম। আদালত গতকাল মাদক মামলায় তিন আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর নামের যে ব্যক্তির কথা বেলাল জানিয়েছেন তিনিও সামশুলের ছেলে। পুলিশ জানায়, সামশুলের পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। বেলালকে গাড়ি চালানোর কাজে নিয়োগ করেছেন জাহাঙ্গীর। হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার  আগে বেলালের নাম ছিল উত্তম দাস।

নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় গত ১১ জুন ভোররাতে বেলালের গাড়িচাপায় এএসআই সালাউদ্দিন ও  পুলিশ কনস্টেবল মাসুম আহত হন। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সালাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চান্দগাঁও থানা এলাকায় পুলিশ শুক্রবার অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাস জব্দ করার পাশাপাশি ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। জব্দ গাড়িতে ৭৩০ লিটার দেশীয় মদ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় হত্যা ও মাদক আইনে দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই বোয়ালখালী থানার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, বেলালের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় এবং রাশেদের বিরুদ্ধে বোয়ালখালী থানায় মামলা রয়েছে।  

আদালতে বেলাল জানান, জাহাঙ্গীরের নির্দেশে রাঙামাটির কাপ্তাই থানার ঘাগরা এলাকা থেকে মদ নিয়ে বোয়ালখালী যাচ্ছিল ওই গাড়ি। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া ছিল, গাড়ি চালানোর সময় পাবলিক বা পুলিশ যে ব্যক্তিই সিগন্যাল দিক না কেন গাড়ি থামানো যাবে না। প্রয়োজনে চাপা দিয়ে সামনে চলে আসতে হবে। যদি গাড়ি থামানো হয়, তাহলে এর দায় বেলালের।

বেলালের জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া জানান, সামশুলসহ তাঁর দুই ছেলে মাদক কারবারে জড়িত।  প্রতি ট্রিপ মদ পরিবহনের জন্য বেলালকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসব মদ চট্টগ্রাম নগরী, বোয়ালখালী ও পটিয়ায় সরবরাহ করে সামশুলের পরিবার। ঘটনার দিন ওই মাইক্রোবাসের সামনে ও পেছনে দুটি মোটরসাইকেল ছিল। এই দুটি মোটরসাইকেলে চারজন মাইক্রোবাসকে স্কট দিচ্ছিল। মোটরসাইকেল দুটি মাইক্রোবাসকে সেদিন সতর্কও করে। এই মোটরসাইকেল আরোহীরা আত্মগোপনে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।



সাতদিনের সেরা