kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা

এলপিজি-এলএনজি আমদানি বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি হলো এলপিজি ও এলএনজি। শিল্প খাতের চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি-এলএনজি আমদানি এবং উৎপাদনের ওপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারঘোষিত ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জ্বালানি উৎসর ভবিষ্যৎ : এলপিজি এবং এলএনজি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান করতে হবে। এটা না হলে আগামী দুই থেকে তিন বছর পর কী হবে বলা মুশকিল। তবে আশা করছি, নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আমরা পাব। কেউ গ্যাসের অপচয় করবেন না, অবৈধ সংযোগ নেবেন না। কেউ গ্যাস চুরি করে ব্যবহার করবেন, আর কেউ বৈধভাবে টাকা দিয়েও গ্যাস পাবেন না—এটা হতে পারে না। কোনো কারচুপি সহ্য করা হবে না। যাঁরা অবৈধ সংযোগ নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলপিজি নিয়ে তিনি বলেন, এলপিজির বাজার প্রায় ১২ লাখ টন এবং ২৯টি কম্পানি স্থানীয় বাজারে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। তবে ৫৬টি কম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করায় খরচ বাড়ছে। তবে মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হলে এ খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে। এরই মধ্যে এলপিজি খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ হয়েছে। এলপিজি ব্যবসার মধ্যে একটা ঝুঁকি আছে, যা অনেকেই জানেন না। একেকটি সিলিন্ডারের পেছনে খরচ হয় প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। বিইআরসি যে এলপিজির দাম ঠিক করেছিল সেখানে এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘এলপিজি অপারেটরদের অনুমোদনের জন্য ২৮ ধরনের লাইসেন্স দরকার হয়। কেন ২৮ ধরনের লাইসেন্স দরকার হয়। বার্ষিক নবায়ন ফি দিতে হয় এক কোটি টাকার বেশি, যা কমানো প্রয়োজন। ব্যবসাবান্ধব হওয়ার জন্য প্রয়োজন হলে নীতিমালা ও আইন সংস্কার করা হবে। ব্যবসাবান্ধবের জন্য যা যা করা দরকার, আমরা করব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের গ্যাসের রিজার্ভ ছয় টিসিএফ এবং সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। বর্তমানে তিন হাজার ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাসের মধ্যে নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসের ৭৪ শতাংশ আসে নিজস্ব খাত থেকে, বাকি ২৬ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে দেশীয় উৎপাদন হবে ১৬.৫ শতাংশ এবং আমদানি খাত থেকে আসবে ৮৩ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে শিল্প খাতসহ সব খাতে ব্যয় বাড়বে। এমন বাস্তবতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর বিকল্প নেই। এর জন্য সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার সালেক সুফী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি হলো এলপিজি ও এলএনজি। শিল্প খাতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের যৌক্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সহনশীল দামে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়নেরও জোর দিতে হবে।’ 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তা ও সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান আমের আলী হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী।



সাতদিনের সেরা