kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের বাধায় সভা পণ্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের বাধায় সভা পণ্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তরা গতকাল শনিবার ফিন্যান্স কমিটির সভা পণ্ড করে দিয়েছেন। এদিন তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, ওই সভায় তাঁদের নিয়োগ বাতিলের ব্যাপারে কথা হবে। তাই তাঁরা সভা হতে দেননি।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান তাঁর মেয়াদের শেষ মুহূর্তে গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেন। এ নিয়ে পরদিন ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানে স্থগিতাদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির সভা হওয়ার কথা ছিল। ওই সভা পণ্ড করতে সকাল ৯টার দিকে ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তরা উপাচার্য ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও সিনেট ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে ভবনগুলোর সামনে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পর তাঁরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে উপাচার্য ভবনে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম অবস্থান করছেন এমন খবরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা আবারও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম উপাচার্য ভবন থেকে বের হয়ে আসার সময় তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের আন্দোলনের ফলে ফিন্যান্স কমিটির সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা চলে যান।

আতিকুর রহমান সুমন নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আজ (গতকাল) ফিন্যান্স কমিটি ও আগামী মঙ্গলবার  (২২ জুন) সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা। আমরা শুনেছি এসব সভায় আমাদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে। সে কারণেই আমরা সিন্ডিকেট ও ফিন্যান্স কমিটির সভা যাতে না হয় সে জন্য ভবনগুলোতে তালা লাগিয়েছি।’

এ বিষয়ে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা কয়েক দিন আগে থেকেই আমি শুনেছিলাম। সে কারণে প্রক্টরের মাধ্যমে থানায় অবগত করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি অবগত রয়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘নিয়োগ আটকে রাখার এখতিয়ার আমার নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’



সাতদিনের সেরা