kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

মাইকিং করে দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা

উভয় পক্ষই এলাকার কয়েকটি দোকান ও বাড়ির দরজা ভাঙচুর করে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজশাহীতে কিশোরদের মধ্যে মারামারিকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে মারামারি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নগরের হেতেম খাঁ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে দুই দল কিশোরের মধ্যে কোনো একটা বিষয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। এর জের ধরে রাতেই হেতেম খাঁ এলাকাধীন লিচুবাগানপাড়ার শিমুল হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সিপাহিপাড়ার কয়েকজন হিন্দু যুবকের মারামারির ঘটনা ঘটে। শিমুল স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাওন আলীর ছোট ভাই। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। উভয় পক্ষই এলাকার কয়েকটি দোকান ও বাড়ির দরজা ভাঙচুর করে। এতে এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর স্থানীয় কয়েকজন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষকে ঘটনার জন্য দায়ী করে রাতেই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী (মুসলমান) তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় জড়ো হয়। এতে দুই পাড়ার মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ গিয়ে লাঠিপেটা করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরে রাতেই রকি কুমার ঘোষ তাঁর ফেসবুকে ঘটনা সম্পর্কে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নই। পুরো বিষয়টা আমার বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র।’ তিনি আরো লেখেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ ব্যক্তিগত রেষারেষিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। এতে তিনি জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি করেন।

জানতে চাইলে নগরের রাজপাড়া থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে মারামারি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা জানতে পেরেছি কেউ দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় উসকানি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’