kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আমানত বাংলাদেশিদের

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টানা তিন বছর ধরে বাংলাদেশিদের আমানত কমছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এর মধ্যে সর্বনিম্ন আমানত ছিল গত বছর পাঁচ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে ৩৭৭ কোটি টাকা কম।

দেশের অর্থনীতিবিদরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত কমাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, গত অর্থবছরে একদিকে করোনা মহামারি, অন্যদিকে মানুষের আয় ও বিনিয়োগ কমেছে, এ কারণেও হয়তো ওই দেশের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমতে পারে। তবে অবশ্য কমার কারণ সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতির হিসাব দিলেও কোন বাংলাদেশি তাঁর নাগরিকত্ব গোপন রেখে টাকা জমা রেখেছেন তার তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতি ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্র্যাংক, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পাঁচ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে যা ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্র্যাংক বা পাঁচ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্র্যাংক বা পাঁচ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্র্যাংক। ২০১৬ সালে ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ ফ্র্যাংক। ২০১৫ সালে ৫৫ কোটি আট লাখ ফ্র্যাংক। ২০১৪ সালে ছিল ৫০ কোটি ৬০ লাখ ফ্র্যাংক। ২০১৩ সালে ছিল ৩৭ কোটি ২০ লাখ ফ্র্যাংক। ২০১২ সালে ছিল ২২ কোটি ৯০ লাখ ফ্র্যাংক। ২০১১ সালে ছিল ১৫ কোটি ২০ ফ্র্যাংক। ২০১০ সালে ছিল ২৩ কোটি ৬০ লাখ ফ্র্যাংক।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই আমানত কমা একদিক থেকে ভালো যে দেশের টাকা দেশেই থাকছে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা কমবে-বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এর কারণ অনুসন্ধান করা খুব কঠিন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির একটা প্রভাব থাকতে পারে। তবে যেহেতু প্রতিবেদনে সেটা বলা নেই, তাই করোনার কারণেই যে আমানত কমেছে, এ কথা বলা ঠিক হবে না।’

প্রতিবেদন অনুসারে আলোচ্য সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের আমানত বেড়েছে।



সাতদিনের সেরা