kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

দেশজুড়ে শনাক্তে উল্লম্ফন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশজুড়ে শনাক্তে উল্লম্ফন

সীমান্তবর্তী জেলার সীমা ছাড়িয়ে সারা দেশেই করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। দিন যতই গড়াচ্ছে, কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যাও ততই বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন বিধি-নিষেধ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে লোকজনের মধ্যেও গাছাড়া ভাব। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউয়ে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ঢেউ এলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নোয়াখালীর সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও নোয়াখালী পৌরসভায় চলমান বিশেষ লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে জেলা শহরে তৃতীয়বারের মতো লকডাউনের মেয়াদ বাড়ল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছে ৫৯ জন, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত সংখ্যা। এরই মধ্যে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা একজনের প্রাণহানি হয়েছে। আর সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি থাকা আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের শরীরে করোনা উপসর্গ ছিল। এদিকে জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দামুড়হুদা উপজেলায় গত মঙ্গলবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় করোনা সংক্রিমত হয়ে প্রাণহানি হয়েছে আরো দুজনের। এ সময়ে ১০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ৫২ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪৮.৫ শতাংশ।

জেলার মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত এক নারী (৫৫)। সেখানে গতকাল র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১০ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। আর ফকিরহাট উপজেলায় ২৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের দেহে করোনা ধরা পড়েছে। গতকাল সেখানে ৬০ বছর বয়সী এক কভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন।

উত্তরের আরেক জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দেখা দিয়েছে জ্বর-সর্দির প্রাদুর্ভাব। উদ্বেগের বিষয় হলো, জটিলতার আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে তেমন কেউ শরণাপন্ন হচ্ছে না। ওষুধের দোকানিরা বলছেন, গত কয়েক দিনে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথার ওষুধ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হয়েছে। উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর জন্য বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ বাড়ছে নড়াইলেও। সর্বশেষ পরীক্ষায় ৭৮ নমুনার ৩৮টিতে ফল পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে আক্রান্তের তালিকায় আছেন বিচারিক হাকিম মো. জুয়েল রানা, সহকারী জজ মো. আফজাল হোসেন ও  লিটন। তা ছাড়া আদালতের তিন কর্মচারীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

গত দুই দিনে শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে বরিশাল বিভাগে। গতকাল এ বিভাগে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫০ জন। আর করোনজনিত মৃত্যু হয়েছে চারজনের। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, বরিশাল জেলায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ১৩ জন, পটুয়াখালীতে চারজন, পিরোজপুরে ১৭ জন, বরগুনায় তিনজন ও ঝালকাঠিতে ১৩ জন। আর ভোলায় গতকাল কেউই শনাক্ত হয়নি।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই করোনা রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় ৩০ জনের প্রাণ কাড়ল করোনা। গত এক সপ্তাহে মেহেরপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৭৪ জন। এর মধ্যে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২৩ জন।

সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর উপজেলা সদর ও কাশিয়ানী উপজেলা সদরে আজ শুক্রবার থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ। তিনি এও জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় ৭২ জন, কাশিয়ানী উপজেলা সদরে ৩৮ জন এবং মুকসুদপুর পৌর এলাকায় ১২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, গণপরিবহন চালু হওয়ার পর থেকে মানুষ বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করছে। কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। এসব কারণে গোপালগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

শেরপুরে গতকাল আরো ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা এক দিনের হিসাবে সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জনই সদর উপজেলার। সিভিল সার্জন আবুল কাশেম মো. আনওয়ারুর রউফ বলেছেন, ‘করোনা প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় স্ব-উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে যাত্রী আসা অব্যাহত আছে। নতুন করে আসতে শুরু করেছে বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। গত চার দিনে ১৩১ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসে। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম জানান, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত এক হাজার ৭৪৬ জন এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফেরে। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।



সাতদিনের সেরা