kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

নিউ ইয়র্কে আলোচনায় বক্তারা

রোহিঙ্গা সংকট এখন আরো জটিল হয়েছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গা সংকট আরো জটিল হয়েছে বলে মত দিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আলোচকরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে ‘মিয়ানমার বর্তমান পরিস্থিতি : সংখ্যালঘুদের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনায় তাঁরা এই মত দেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্ক মিশন এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর দ্য রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট ওই ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে গণবাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলা ধারাবাহিক নীতি ও কর্মকাণ্ডের অংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকারী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভোলকান বোজকির গতকালের আলোচনায় বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংকটে মানবিক তৎপরতার চাহিদা বেড়েছে। লোকজন বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বাড়িঘরে ফিরতে পারছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য কভিড টিকা প্রয়োজন। চলাচলের স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন। মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য নেতিবাচক ধারা থেকে সরে আসার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি বলেন, আগামী শুক্রবার তিনি সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ঘোষণা দেবেন। সদস্যরা রাজি হলে একটি রাজনৈতিক ঘোষণাও গৃহীত হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এই বিশ্বেও ‘বিবেকবান’ ও ‘মানবাধিকারের’ নেতাদের মুখ রক্ষা করেছেন। অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও তাদের ফিরিয়ে দিতে পারত বা বিপদে সাড়া নাও দিতে পারত। আমরা রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় নীরব বা নিষ্ক্রিয় কোনোটাই থাকতে পারি না।”

মন্ত্রী বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও এনজিও নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। চার বছরেও মিয়ানমার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করার আহবান  জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে চাপ না দিলে কাজ হবে না। আসিয়ানসহ আঞ্চলিক সংস্থাকে অবশ্যই ভূমিকা পালন করতে হবে। এই সমস্যা মিয়ানমারের, সমাধানও মিয়ানমারের। আগামীকালের জন্য অপেক্ষা না করে আজই সমাধান করতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চার বছর আগে যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে, তখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেক জেগে ওঠেনি। এখন কয়েক শ মিয়ানমারের নাগরিকের মৃত্যুর পর বিশ্ব সচেতন হয়েছে। এখন মিয়ানমারের ভেতরেও অনেকের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মনোভাবের পরিবর্তন এসেছে।

গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরুমু মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। আলোচনা পর্বে তিনি বলেন, চার বছর পর মিয়ানমারে আরো সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হামলার শিকার হচ্ছে। জবাবদিহি ও মিয়ানমার বাহিনীর সংস্কার ছাড়া অগ্রগতি হবে না।