kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত কভিড টিকা পৌঁছে দেবে ড্রোন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন কুয়েটের চার শিক্ষার্থী

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একটি ড্রোন (চালকহীন বিমান) তৈরি করতে হবে। ড্রোনটিকে হতে হবে বিশ্বে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে (চর, পার্বত্য এলাকা, গ্রাম) কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি ছাড়া দ্রুততম সময়ে কভিড ভ্যাক্সিন পৌঁছে দিতে সক্ষম। ছিল আরো কিছু শর্তও। সব শর্ত পূরণ করে ড্রোনটি আবিষ্কার করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের একদল ছাত্র।

চলতি বছরের ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ভারতের আইআইটি (Indian Institutes of Technology), রুর্কি আয়োজন করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘Cognizance 21’। প্রতি বছরের মতো এবারও এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেন বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম বিভাগ (সেগমেন্ট) ছিল ‘Aer-O-Vacx’। এই বিভাগে কুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দলটি আন্তর্জাতিকভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

কুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নিলয় নাথ (দলপতি/টিম লিডার), জাহিদ হাসান, শাহিনুর হাসনাত রাহাত, আয়াজ আল আবরার যৌথভাবে ওই ড্রোন তৈরি করেন। জাহিদ (বগুড়া) ছাড়া অন্যদের বাড়ি চট্টগ্রামে। ড্রোনটি তৈরির কাজ সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করেন কুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল এন নাহিয়ান। তাঁর ছাত্ররা পুরস্কারটি অর্জন করায় তিনি বেশ খুশি।

ড্রোন তৈরি দলের দলপতি নিলয় নাথ বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটি দুটি রাউন্ডে বিভক্ত। প্রথম রাউন্ডে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন রিপোর্ট সাবমিট করতে হয়। এর ভিত্তিতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিযোগী থেকে বাছাই করে ২২টি দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে সম্পূর্ণ ডিজাইনের খুঁটিনাটি বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষতার ভিত্তিতে ফল ঘোষণা করা হয় এবং আমাদের দল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।’

নিলয় নাথ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ চট্টগ্রাম অফিসে এসে তাঁদের এই অর্জনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটি ছিল মূলত একটি ডিজাইন কন্টেস্ট, যেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। আমাদের একটি ড্রোন ডিজাইন করতে দেওয়া হয়, যা মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলে কভিড-১৯-এর ভ্যাক্সিন পৌঁছে দিতে পারবে। শুধু ড্রোন তৈরি করলে হবে না। ড্রোনটির নির্দিষ্ট পাঁচটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। তা হলো, ৫০ গ্রাম ভরের ২০০টি ভ্যাক্সিনের বোতল বহন করতে হবে। কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার উড্ডয়নকাল থাকা লাগবে। কোনো ধরনের মানুষের সংস্পর্শ ছাড়া ভ্যাক্সিন বহন করতে পারবে। ভ্যাক্সিনের তাপমাত্রা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা লাগবে। নিরাপদে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাক্সিনের বক্স লোড এবং আনলোড করতে পারবে।’

নিলয় বলেন, ‘যেহেতু ড্রোনকে কম সময়ে অনেক বেশি দূরত্ব ভ্রমণ করতে হবে, তাই ড্রোনের ওজন হতে হবে অনেক কম এবং শক্তিশালী কাঠামোর। এ জন্য ড্রোন ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমরা কার্বন ফাইবার ব্যবহার করি। যেটার ওজন অনেক কম এবং এর তৈরি কাঠামো অনেক শক্তিশালী। তারপর ভ্যাক্সিনের তাপমাত্রা দুই থেকে আট ডিগ্রি রাখতে আমাদের ভ্যাক্সিন বক্সের মধ্যে রেফ্রিজারেশন সিস্টেম রাখতে হয়। যাতে ড্রোনটি নিরাপদে ভ্যাক্সিন তুলতে এবং নামাতে পারে সে জন্য আমরা দুই ধরনের গ্রিপিং সিস্টেম রাখি, যেটা ভার বহনকারী ড্রোনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধারণা। আমাদের জন্য এটি ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

নিলয় আরো বলেন, ‘প্রতিযোগিতার ঠিক ১৫ দিন আগে আমরা কাজ শুরু করি। করোনা পরিস্থিতি এবং সবাই একই শহরে না থাকায় অনলাইনে আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। হাতে সময় কম থাকায় দিনের পাশাপাশি রাতেও আমরা টানা কাজ করেছি। ১৫ দিন টানা রিসার্চ এবং ক্যালকুলেশনের ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের মডেল দাঁড় করাই। আমাদের চারজনের সর্বোচ্চ চেষ্টার ফলে আমাদের তৈরীকৃত মডেলে প্রদত্ত সব বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।’

‘আমাদের এই অর্জন দেশের কভিড পরিস্থিতিতে কভিড ভ্যাক্সিন দ্রুত এবং দূর-দূরান্তে নিরাপদে বহন করতে নতুন ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন নিলয়। ড্রোন তৈরিতে তাঁদের প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে।



সাতদিনের সেরা