kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনলাইন সেমিনারে তাগিদ

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে

উপকূল অঞ্চল থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের একটি অংশ উপকূলের জনপদ সুরক্ষায় ব্যয় করার আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক দুর্যোগ আঘাত হানছে। ফলে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে সরকারের সব উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়বে। এ জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। একটি অনলাইন সেমিনারে সংসদ সদস্যসহ নাগরিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এ কথা বলেন।

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংস্থা কেএনএইচ জার্মানি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশন আয়োজিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, কেএনএইচ জার্মানির প্রতিনিধি মাটিলদা টিনা বৈদ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পার্লামেন্ট নিউজ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমাম হাসান, স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল, লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য, সচেতন সংস্থার সানজিদুল হাসান প্রমুখ।

আলোচনায় নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই উন্নয়নের ঢেউ উপকূলীয় অঞ্চলেও পৌঁছেছে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে সেই উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। এর কারণ ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভরাটসহ নানা কারণে বর্তমানে দীর্ঘদিনের পুরনো এই বেড়িবাঁধ উপকূলের সুরক্ষা দিতে পারছে না। এখন পরিকল্পিতভাবে নতুন বাঁধ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে স্থায়ী ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা যেমন করতে হবে, তেমনি পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর উপকূলের সব ধরনের সমস্যা সংকট নিয়ে কাজ করার জন্য পৃথক একটি বোর্ড বা সংস্থা গঠন করাও দরকার।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন অবিবার্য হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এই অঞ্চল। এ বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সরাসরি আঘাত না করলেও উপকূলের বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য মানুষ এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হচ্ছে। উপকূল অঞ্চল থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের একটি অংশ উপকূলের জনপদ সুরক্ষায় ব্যয় করার আহবান  জানান তিনি।

উপকূলের ঝুঁকি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান  জানিয়ে মাটিলদা টিনা বৈদ্য বলেন, বাঁধ ব্যবস্থাপনার অভাবে এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চল এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে। এই সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড গঠনের আহবান  জানিয়ে বলা হয়, ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা