kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

ভাসানচরে ১৫ দিনে আক্রান্ত পাঁচ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নোয়াখালীর ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ১৫ দিনে পাঁচ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছে; প্রাণ হারিয়েছে তিন শিশু। অন্যদিকে বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম এলাকায় ম্রো জনজাতি অধ্যুষিত পাঁচটি দুর্গম গ্রামে ডায়রিয়ায় গত পাঁচ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করে গতকাল সকাল থেকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ শয্যা হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরম ও গরমের পর পর বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ২০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝেতে, বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকট। সব মিলিয়ে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাসানচর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সরা। অন্যদিকে দ্রুত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় কলেরা স্যালাইন ও খাওয়ার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে ভাসানচর থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের রেফার করা হচ্ছে।

ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তানভীর আনোয়ার জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এখানে আলাদা কোনো শয্যা কিংবা ওয়ার্ড নেই। ২০ শয্যা হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। শয্যার অভাবে বারান্দায় ও মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত রোগী বাড়ার কারণে হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে নদী উত্তাল থাকার কারণে ওষুধের চালান ভাসানচরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত গত এক সপ্তাহে তিন শিশু মারা গেছে। মৃতরা হলো ১০ ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নং ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) ও ৫৫ নং ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (তিন মাস)।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ডায়রিয়া প্রকোপের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া তারা সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে না পারায় এবং খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার না করা এবং তীব্র গরমের কারণে ভাসানচর ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

ওষুধ সংকটের বিষয়টি ডা. মাসুম ইফতেখার নাকোচ করে আরো বলেন, ওষুধের কোনো সংকট নেই। খাওয়ার স্যালাইন ও কলেরার স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গত তিন দিন ধরে ভাসানচর যাওয়ার জন্য হাতিয়ার জনতা ঘাটে গিয়ে ফিরে এসেছে।

বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় ১০ জনের মৃত্যু

বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম এলাকায় ম্রো জনজাতি অধ্যুষিত পাঁচটি দুর্গম গ্রামে ডায়রিয়ায় গত পাঁচ দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পাঁচটি গ্রামে বিভিন্ন বয়সের কমপক্ষে দেড় শ নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়ায় ভুগছে। গত সপ্তাহ থেকে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম গ্রামগুলোতে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের জওয়ানরা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দিতে থাকে। রবিবার বিকেলে এ খবর উপজেলা সদরে পৌঁছলে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম হাঁটাপথে এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। সোমবার ১৪ জুন বিকেলে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে ওষুধপত্র নিয়ে আরো একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট কতজনের মৃত্যু ঘটেছে এ তথ্য এখনো জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত হওয়া ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন মাঙরুম ম্রো পাড়ার বাসিন্দা মাঙডম ম্রো (৬৫), ঙানলি ম্রো (৫২), রেংচঙ ম্রো (৪৫), সাংপুর ম্রো (৪০), পাইনোরিং ম্রো (৬) এবং ইয়ংচা ম্রো পাড়ার বাসিন্দা কাইথার ম্রো (৭০), রামডং ম্রো (৫০), চিংলে ম্রো (২২), তুমলত ম্রো (৭০) ও সোনালী পাড়ার বাসিন্দা জনেরুঙ ত্রিপুরা (বয়স জানা যায়নি)।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংশৈপ্রু মারমা আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।



সাতদিনের সেরা