kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে চলছে স্বাস্থ্য খাত

অনিয়ম-দুর্নীতি ও সংকট নিয়ে সংসদে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনবল সংকট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা। সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা করোনা সংক্রমণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে।

এক সপ্তাহ বিরতির পর গতকাল সোমবার সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়াশিকা আয়েশা খান ও উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের শিরীন আখতার এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সূত্রপাত করে ফারুক খান বলেন, বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ কভিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। কভিড মোকাবেলায় টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, বিদেশি টিকা বাংলাদেশে উৎপাদন এবং দেশেই টিকা উদ্ভাবন ও তৈরি করতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক খবরদারি বিরাজমান। করোনা রোধে স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে দেখেছি মাস্ক, পিপিই, করোনা টেস্ট নিয়ে জালিয়াতি। একজন সাহেদ, একজন সাবরিনা গ্রেপ্তার হয়েছেন; কিন্তু যারা সচিত্র চুক্তি স্বাক্ষর করল, কাজ দিল, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমেই টিকা সংগ্রহ করে সফলভাবে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে টিকা সরবরাহের পরিণতি দেখছি। টিকা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আগামী মাসগুলোতে টিকা আসবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা সংক্রমণ রোধ হবে না। এই টিকা সরকারকেই সংগ্রহ করতে হবে। দেশে টিকা উৎপাদনের যে সক্ষমতা আছে তা কাজে লাগাতে হবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির মধ্যেও শেখ হাসিনার সরকার একটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত-সমৃদ্ধ জাতি গড়তে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে অবশ্যই প্রযুক্তির পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তুলে শাজাহান খান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। আড়াই শ বেডের হাসপাতাল হয়েছে; কিন্তু জনবল নেই, যার কারণে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ডিজাস্টার ঘটে গেছে। যারা সেকেন্ড ডোজ পাচ্ছে না তাদের কী হবে? সরকারকে তাদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভ্যাকসিন নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। একক সিদ্ধান্তে কেনার কারণে বাংলাদেশ আজ ট্র্যাপে পড়ে গেছে।