kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান

প্রথম দিনে ৩৭০ ঘর উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ধসে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই অভিযানে নামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ৩৭০টি ঘর উচ্ছেদ করে পাহাড় থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের আশপাশের পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় এরই মধ্যে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন পাহাড়ে অভিযান চালান। তাঁরা হলেন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীক, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইনামুল হাসান, হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী কমিশনার শরীফ উল্যাহ, পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার এহসান মুরাদ, সীতাকুণ্ড সার্কেলের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার মাসুমা জান্নাত। পরিবেশ অধিদপ্তর, নগর ও জেলা পুলিশ, র‌্যাব এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, ‘টানা ছয় ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়েছে। লিংক রোডের আশপাশে এবং ছিন্নমূল এলাকায় প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা থেকে ৩৭০টি ঘর আমরা উচ্ছেদ করেছি। অধিকাংশ ঘরই বাঁশের বেড়া ও টিন দিয়ে তৈরি। কয়েকটা ছিল সেমিপাকা। শুধু টিনের ঘরও কিছু ছিল। কয়েকটি বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা ৩৭০টি পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে পাহাড় থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এরা সবাই পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ছিল। ভারি বর্ষণ শুরু হলে যেকোনো ধরনের বিপর্যয় হতে পারত।’

উচ্ছেদের পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম এক মাস ধরে চলবে। অভিযানের পর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের দেড় কিলোমিটার এলাকা অবৈধ বসতিমুক্ত হলো।’

উচ্ছেদের সময় বৃষ্টি শুরু হলে সেখানকার লোকজন বিপাকে পড়ে। এ সময় তারা কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রায় ছয় কিলোমিটার বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ছোট-বড় ১৮টি পাহাড় কেটেছে। নগরীর উত্তর পাহাড়তলী মৌজা, হাটহাজারীর জালালাবাদ মৌজা এবং সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর মৌজায় এসব পাহাড় কাটা হয়। ২০২০ সালে পাহাড় কাটার জন্য সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সিডিএর কেটে ফেলা ১৮টি পাহাড়ের মধ্যে অন্তত আটটি পাহাড়ে রয়েছে কয়েক শ অবৈধ বসতি। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সিডিএর কেটে ফেলা পাহাড়সহ নগরীতে এখন মোট ২৫টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে। অতিবৃষ্টিতে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এসব পাহাড়ে।