kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

চট্টগ্রাম বিভাগে ফের ‘সর্বোচ্চ মৃত্যু’

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চট্টগ্রাম বিভাগে ফের ‘সর্বোচ্চ মৃত্যু’

এক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে ৭৭.০৫ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লায় সংক্রমণের হার কমলেও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে তিনজন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিভাগের ১১ জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার কুমিল্লায় ৩.৪৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত এক মাসের মধ্যে করোনায় দৈনিক মৃত্যুহার বিভাগীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ। এর অন্যতম কারণ কুমিল্লায় মৃত্যুহার কমছে না। চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় গত বছর এই সময় শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুহার প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও তা কমে এখন ১.১৭ শতাংশে এসেছে। অন্যদিকে কুমিল্লা জেলায় শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ক্রমে বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় শনাক্তের তুলনায় মৃত্যুহার ৩.৪৬ শতাংশ। দুই দিন আগে সেখানে ছিল ৩.৪৩ শতাংশ।

এদিকে দেশে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগীয় পর্যায়ে করোনায় মৃত্যুতে চট্টগ্রাম বিভাগ শীর্ষে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৪ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ জন মারা গেছে। এরপর ঢাকা বিভাগে ১৩ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী ১১ জেলায় মোট শনাক্ত ৪৩৫ জন; এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় সর্বোচ্চ ২২৫ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে শনাক্ত হয়েছিল ৬৭ জন, যা ৬২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু একলাফে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২২৫ জন। এক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামে শনাক্ত বাড়ল ৭৭.০৫ শতাংশ। আর গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে মোট করোনা শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ১.৫৫ শতাংশ। 

এদিকে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ফটিকছড়িতে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্ট (ভারতীয় ধরন) শনাক্ত হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

গবেষকদলের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ফাংশনাল জিনোমিক অ্যান্ড ফোটিওমিক্স ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান জানান, চট্টগ্রামের সাতটি করোনা পরীক্ষাগারে ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করে ভেরিয়েন্ট বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দুটি ভারতীয় (ডেল্টা), তিনটি নাইজেরীয় (ইটা), চারটি যুক্তরাজ্যের (আলফা) এবং ৩৩টি দক্ষিণ আফ্রিকার (বিটা) ভেরিয়েন্ট  পাওয়া গেছে। গত মে মাসের শেষের দিকে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রামে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে।

গবেষকরা আরো জানান, ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত দুজন রোগীর কেউই সম্প্রতি ভারতে যাননি এবং তাঁরা ভারতফেরত কারো সংস্পর্শেও আসেননি। ডেল্টা ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হওয়া দুজনের মধ্যে ফটিকছড়ি এলাকার রোগীকে খুঁজে পাওয়া গেলেও অন্য শনাক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা দেশের মধ্যে চট্টগ্রামে সংক্রমণ কিছুটা বাড়তির দিকে। আগে নগরে বেশি ছিল। এখন গ্রামে সংক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতেই হবে। এ ব্যাপারে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. আবদুর রব বলেন, চলতি সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতিতে যাচ্ছে কি না তা জানা যাবে। কয়েক দিন ধরে সংক্রমণের হার আরো বেড়েছে। সংক্রমণ যাতে ঊর্ধ্বগতিতে না যায়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য ঘরের বাইরে গেলেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রাজীব পালিত বলেন, করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তির দিকে। তবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়েনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যে জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত ১১ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ আট হাজার ৯৫ জনের। এর মধ্যে ৫০.৯১ শতাংশ চট্টগ্রাম জেলায়। বিভাগে মোট মারা যাওয়া এক হাজার ৬৭৪ জনের মধ্যে চট্টগ্রামে মারা গেছে ৬৪৫ জন, যা বিভাগের মোট মৃত্যু হারের ৩৮.৫৩ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় মোট করোনা শনাক্ত ১৩ হাজার ৩৮ জনের মধ্যে মারা গেছে ৪৫১ জন, যা শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুর হার ৩.৪৬ শতাংশ।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৯ জুন এক হাজার ১৬১টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৪ জনের, ১০ জুন ৮১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১১৯ জন; ১১ জুন এক হাজার তিনটি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১২৯ জন, ১২ জুন এক হাজার চারটি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত ১৫৮ জন, ১৩ জুন ৭৪১ নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত ৬৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৯ জুন একজন, ১০ জুন তিনজন, ১১ জুন তিনজন, ১২ জুন দুজন ও ১৩ জুন দুজন।