kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুই সন্তান নিয়ে টানাটানি পিবিআইয়ের ‘বাগড়া’

মিতু হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই সন্তান নিয়ে টানাটানি পিবিআইয়ের ‘বাগড়া’

বহুল আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত পর্যায়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যে এবার নতুন ‘অঙ্ক’ তৈরি হচ্ছে। সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ও মিতু দম্পতির দুই সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহির ও তাবাসুমকে নিজেদের হেফাজতে পেতে বাবুলের বাবা আবদুল অদুদ এবং মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন ঢাকা ও মাগুরার আদালতে আবেদন করেছেন।

এ অবস্থায় বাবুল-মিতুর দুই সন্তানকে এবার মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী উল্লেখ করে তাদের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। তিনি গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে মাহির ও তাবাসুমকে হাজির করার এবং তাদের জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করার পর এটির শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে মাহির ও তাবাসুমকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হাজির করতে বাবুলের বাবা ওয়াদুদ মিয়া ও ভাই হাবিবুর রহমান লাবুকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মিতু হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আক্তার মাহমুদ মাহির (১২) এবং ছোট মেয়ে তাবাসুম পারিবারিক সদস্য হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। গত ২৭ মে এই দুই সাক্ষীকে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হাজির করতে বলা হয়েছিল। গতকাল ছিল মাহির ও তাবাসুমকে হাজির করার দিন। কিন্তু হাবিবুর রহমান লাবু দুই সাক্ষীকে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হাজির না করায় মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটছে। মামলার আসামি বাবুল আক্তারের দেওয়া ঠিকানায় পিবিআই খোঁজ নিয়েও দুই সাক্ষীকে পায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দুই সাক্ষী যেন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিতে না পারে, সে জন্য ওয়াদুদ ও লাবু তাদের লুকিয়ে রেখেছেন।

সন্তোষ কুমার চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি, ১৫ দিনের মধ্যেই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে পারব।’

মাহির ও তাবাসুমকে এমন এক সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হাজির করতে আদালত নির্দেশনা দিলেন, যখন শিশু দুটির বাবা বাবুল পাঁচ বছর আগে মা মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফেনী জেলা আদালতে বন্দি আছেন। মা-হারা দুই শিশু পাঁচ বছর ধরে বাবার কাছে ছিল। এখন মায়ের খুনি সন্দেহে বাবা কারাগারে। তারা আছে দাদা-চাচার কাছে।

দাদার বাড়িও এখন স্বস্তিময় হচ্ছে না। নানা মোশাররফ নাতি-নাতনিকে হেফাজতে পাওয়ার জন্য ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছেন। এরপর নাতি-নাতনিকে হেফাজতে রাখার দাবি জানিয়ে দাদা ওয়াদুদ আবেদন করেছেন মাগুরার পারিবারিক জজ আদালতে।



সাতদিনের সেরা