kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাক্ষীকে দিনদুপুরে কোপাল দুর্বৃত্তরা

বুলেট হত্যা মামলা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লালমনিরহাটে ২০১৫ সালে আলোচিত যুবলীগকর্মী ও ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বুলেট হত্যা মামলার সাক্ষী মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লুতুকে দিনদুপুরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকেলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গত শুক্রবার দুপুরের দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বুড়িরবাজারে মোস্তাফিজুরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় এনামুলসহ ৯ জনের নামে পরদিন শনিবার মামলা করেন আহতের স্ত্র্রী রেবেকা সুলতানা। আহত মোস্তাফিজুর তিন দিন ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা পরিষদ সদস্য ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তাহমিদুল ইসলাম ওরফে বিপ্লব ও বুলেট হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনুল খান।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বুড়িরবাজারে জেলা পরিষদ সদস্য তাহমিদুল তাঁর লোকজন নিয়ে মোস্তাফিজুরকে ধাওয়া করেন। এ সময় একজনের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর হাত-পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রামদা, রড ও হাতুড়ি দিয়ে অসংখ্যবার আঘাত করা হয়। মোস্তাফিজুরকে বাঁচাতে বাজারের কয়েকজন এগিয়ে এলে তাঁদেরও ধাওয়া দেওয়া হয়। পরে রক্তাক্ত মোস্তাফিজুরকে পাশের একটি কিন্ডারগার্টেনের পেছনের পুকুরপারে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। তাঁকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুলেট হত্যা মামলার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে আমিনুল ও তাঁর লোকজন বারবার নিষেধ করে আসছিল মোস্তাফিজুরকে। তিনি তাতে সাড়া দেননি।

জানা গেছে, মোস্তাফিজুরের দুই হাতে অন্তত ২২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একটি পা ভেঙে গেছে, অন্য পায়ের হাড় ফেটে গেছে। এ ছাড়া মাথা ও শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

মোস্তাফিজুরের স্ত্রী রেবেকা গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার স্বামী সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে। এখনো আঘাতের স্থানগুলো থেকে রক্ত ঝরছে। আমি এ ঘটনার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারসহ ন্যায়বিচার চাই।’



সাতদিনের সেরা