kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

এইচআইভি সম্পর্কে জানে না দেশের ৩৮% নারী

বরিশাল বিভাগের ৫১ শতাংশ নারী এই মারণব্যাধির নামই শোনেনি

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এইচআইভি সম্পর্কে জানে না দেশের ৩৮% নারী

এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের ৩২ বছর পরও দেশের ৩৮.৬ শতাংশ নারী যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর, এটি সম্পর্কে কিছুই জানে না। সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল। এই বিভাগের ৪৮.১ শতাংশ নারী শুধু এই মারণব্যাধি সম্পর্কে শুনেছে। বাকি ৫১.৯ শতাংশ নারী এই ভাইরাসের নামও শোনেনি।

চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মাল্টি ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’ জরিপে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সারা দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছরের নারীদের ওপর ২০১৯ সালে তারা জরিপটি পরিচালনা করে।

বিবিএস জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সারা দেশের নারীদের মধ্যে ৬১.৪ শতাংশ নারী এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কে জানে। তাদের মধ্যে ১১.৬ শতাংশ এই ভাইরাস সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখে। মায়ের শরীর থেকে এই ভাইরাস যে শিশুর শরীরে ছড়াতে পারে, সেই জ্ঞান আছে ৩৩.৫ শতাংশ নারীর। এই ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে কোথায় গিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে, তা জানে মাত্র ১৬.৪ শতাংশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কিত প্রচারণা ও জনসচেতনতার অভাবে এমনটা হতে পারে। বেশ কিছুটা সময় ধরে টেলিভিশন, জাতীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এই বিজ্ঞাপনের হার অনেকটা কমে গেছে। ফলে বিষয়টিতে গণমানুষের মনোযোগ কিছুটা কমে গিয়ে থাকতে পারে। এ জন্য এইচআইভির প্রচার নিয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ দরকার।

বিবিএস জরিপ প্রতিবেদনের জেলাওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এইচআইভি ভাইরাস সচেতনতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের নারীরা। এই জেলায় ৮১.৫ শতাংশ নারী এই ভাইরাস সম্পর্কে জানে। এরপরই খুলনার অবস্থান। এই জেলার মাত্র ২১.১ শতাংশ নারী এই ভাইরাস সম্পর্কে অজ্ঞ। বাগেরহাট জেলার এইচআইভি সচেতনতার হার অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেকটাই বেশি, ৭৭.২ শতাংশ। তবে এই সচেতনতায় পিছিয়ে আছে বান্দরবান। এই পার্বত্য জেলার ৬৯ শতাংশ নারী জানে না এই ভাইরাস সম্পর্কে। তার পরই আছে গোপালগঞ্জ জেলা। এখানকার মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ নারী এই ভাইরাস সম্পর্কে জানে।

এইচআইভি সচেতনতা সৃষ্টিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির এইচআইভি প্রগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ড. শামিউল ইসলাম বলেন, ‘এইচআইভি সচেতনতায় আমরা মূলত দুইভাবে কাজ করি। একটি হলো ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ অর্থাৎ নেশাগ্রস্ত, যৌনকর্মী প্রভৃতি। আরেকটি হলো তরুণ প্রজন্মকে টার্গেট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সচেতনতা সৃষ্টি। করোনা পরিস্থিতিতে এই সচেতনতা পদক্ষেপে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আমরা আবারও কাজ শুরু করতে পারব।’

বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০০ জন করে রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশে এই রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯। আর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম রোগী মারা যায় চলতি বছরে।