kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জমি জটিলতায় আটকে ড্রেজিং

মোংলা বন্দর

এম এ মোতালেব, (মোংলা) বাগেরহাট   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমি জটিলতায় আটকে ড্রেজিং

পশুর চ্যানেলে ডাম্পিং এরিয়া বুঝে না পাওয়ায় আটকে আছে মোংলা বন্দরে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বন্দরের ইনার বার খনন প্রকল্প। এর মধ্যে আবার নদীতীরের প্রান্তিক চিংড়ি চাষিরাও পারে মাটি ফেলতে দিচ্ছেন না। এসব কারণে কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দিতে পারছে না ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান জেভি কম্পানি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইনার বার খননের জন্য গত বছর ৩০ ডিসেম্বর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনা প্রতিষ্ঠান জেভি কম্পানির মধ্যে চুক্তি হয়। প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় নদীর চ্যানেলের দুই পাশে মোট ১৪টি প্লট (ডাম্পিং এরিয়া) ড্রেজিং করা মাটি ফেলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে জমি হুকুম দখলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সাতটি প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি সাতটি প্লট এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। তা ছাড়া নদীর পারের চিংড়ি চাষিরাও পারে মাটি ফেলার বিরোধিতা করছেন। অথচ প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, অস্থায়ী কফারড্যাম সৃষ্টি করা যাতে ড্রেজিংয়ের বালির জন্য একটি ডাম্প সাইট তৈরি করা যায়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নদীর তীরে বেশির ভাগ ঘের শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। স্থানীয় ব্যক্তিদের মালিকানাধীন ঘের খুব কম। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণও পাবেন। তবে একটি পক্ষ জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করায় প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলছেন, পুরোদমে বর্ষা শুরু আগে বাঁধ বা ডাইক নির্মাণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে কাজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী বলেন, ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল খননকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তিনটি কাটার সাকশান ও দুটি হোপার ড্রেজার। খননকাজে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জমি হুকুম দখল নিয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষ বাগেরহট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ওই বিষয়টি সমাধান হলেই নদীর পারে মাটি ফেলার স্থান ঠিক হয়ে যাবে।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘ইনার বারের ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলার জন্য জমি হুকুম দখলের বিষয়টি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দফারফার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সেটি ফয়সালা হলেই ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলা যাবে।’ তবে তিনি বলেন, এখন বন্দরে সাত মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসছে। তাতেই বন্দরের অবস্থা খুব ভালো। ইনার বার ড্রেজিং সমাপ্ত হলে আগামী বছর জুন মাস থেকেই মোংলা বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসতে পারবে। তখন মোংলা বন্দরই হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বর্ণদুয়ার।’

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, এর আগে সম্প্রতি আউটার বারের ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শুরু হওয়া ইনার বার ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বন্দরের প্রায় দেড় শ কিলোমিটার নদীপথ দিয়ে অধিক গভীরতার জাহাজ মোংলা বন্দরে যাতায়াত করতে পারবে।

বন্দর ব্যবহারকারী ও সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী ও মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুলতান হোসেন খান বলেন, ‘ইনার বার ড্রেজিং সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেড়ে হবে দ্বিগুণ।’



সাতদিনের সেরা