kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

৯৫% টায়ারেই এডিসের বাস!

শম্পা বিশ্বাস   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাচ্ছন্দ্যে বাসের জন্য ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা পরিত্যক্ত টায়ারকেই বেশি নিরাপদ মনে করছে। রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড এবং বড় বড় ভবনের পার্কিং এলাকায় ফেলে রাখা ৯৫ শতাংশ টায়ারেই মিলছে এডিস মশার অস্তিত্ব। সেখানে বাধাহীন গতিতে জন্মাচ্ছে এডিস মশা। গেল মে মাসে রাজধানীতে করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এ ছাড়া নগরীর বাসাবাড়ির ৯০ শতাংশ ওয়াটার মিটার হোলেই (ভবনে ওয়াসার পানি ধরে রাখার রিজার্ভ ট্যাংকির সঙ্গে লাগানো এক থেকে দেড় ফুটের একটি চৌবাচ্চা) পাওয়া গেছে এডিস মশা। তবে এই মশার অস্তিত্ব সবচেয়ে কম মিলেছে ফুলের টবে, সেটা ১০ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর রাজধানীর ৮০ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে পাওয়া যেত এডিস মশা। তবে ২০২১ সালে নির্মাণাধীন ভবনে আগের চেয়ে এডিস মশা কম মিলেছে। এ বছর ৫০ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে মিলেছে এডিসের লার্ভা। এর বাইরে ভাঙা কমোড এবং পুরনো কনটেইনারেও পাওয়া গেছে এডিস।

এ ব্যাপারে গবেষণাদলের প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশকবিরোধী কিছু অভিযান পরিচালনা করে নির্মাণাধীন ভবন মালিকদের জরিমানা করায় ভবন মালিকরা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। ফলে গত মাসে নির্মাণাধীন ভবনে ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশে এডিস মশা পাওয়া গেছে। এই গবেষক আরো বলেন, বাসার ওয়াটার মিটার হোল বন্ধ রাখার কথা থাকলেও বেশির ভাগ বাড়িতেই এটি খোলা থাকে এবং সেখানে অনেক বেশি এডিস মশা জন্মায়। অনেক সময় ওয়াটার মিটার হোলে ছিদ্র থাকার কারণেও সেখানে এডিস বংশবিস্তার করে।

প্রতি মাসে রাজধানীর ছয়টি ওয়ার্ডের ৯০টি স্থানকে নমুনা ধরে সেখানে মশার ঘনত্ব থেকে ডিজিজ প্রেডিকশন এবং মসকুইটো প্রেডিকশন করেন এই গবেষক। তবে এর বাইরেও কয়েকটি সংরক্ষিত এলাকায়ও কাজ করেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মধ্যে তুলনা করলে উত্তরে মশার অস্তিত্ব বেশি পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করলেন এই গবেষক। তবে সেটা ভৌগোলিক কারণে। এ জন্য ডিএনসিসিকে মশার মৌসুমে আরো বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

গত ১ জুন থেকে মশক নিধনে মৌসুমের প্রথম চিরুনি অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি, শুক্রবার ছাড়া এই অভিযান চলে ১০ দিন। তবে এ বছর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডিএনসিসির একটি অঞ্চলের মশক নিধনের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। গত ১ জুন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ডিএনসিসির এডিস নিধন চিরুনি অভিযানের উদ্বোধনী দিনে এই ঘোষণা দেন মেয়র। এ বিষয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর এক মাসের জন্য পাইলটিং হিসেবে আমরা মশক নিধন কর্মসূচি থার্ড পার্টিকে দেব। প্রাথমিকভাবে উত্তরের অঞ্চল-৩ এলাকায় এই পাইলটিং প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। এই দায়িত্ব দরপত্রের মাধ্যমে সেইসব প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে যাদের নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও ল্যাব আছে। তারা তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডিস নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি আমাদের দলও অন্য অঞ্চলগুলোতে কাজ করবে। পরে যারা ভালো করবে আমরা তাদের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে চলতি বছর ঢাকা এডিসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমানে ঢাকা উত্তর যে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে সেটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে মানুষ আতঙ্কিত হবে এবং এই আতঙ্ক থেকে তারা সচেতন হবে। ফলে তখন এডিসের প্রকোপ কমেও যেতে পারে। তবে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ, মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা যদি পর্যাপ্ত না থাকে তাহলে এডিসের উচ্চঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা