kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

এসএসটিএএফের জরিপ

চার মাসে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু

হটস্পট সিরাজগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্চ মাস থেকে প্রায় চার মাসে দেশে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বজ্রপাতে আহত হয়েছে ৪৭ জন। বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতায় কাজ করা সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়্যারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ) গতকাল শুক্রবার ঢাকায় নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

এসএসটিএএফের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় চার মাসে শুধু কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১২২ জনের। বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছে ১৫ জন। ঘরে অবস্থানকালীন বজ্রপাতে মারা গেছে ১০ জন, নৌকায় মাছ ধরার সময় মারা গেছে ছয়জন। মাঠে গরু আনতে গিয়ে পাঁচজন, মাঠে খেলা করার সময় তিনজন, বাড়ির আঙিনা বা উঠানে খেলা করার সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যান ও রিকশা চালানোর সময় দুজন এবং গাড়ির ভেতরে অবস্থানকালীন বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বজ্রপাতে এই মৃত্যুর মোট সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ১৪৯ এবং নারী ২৮ জন। নারী ও পুুরুষের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৩, কিশোর ছয় এবং কিশোরীর সংখ্যা তিন।

এসএসটিএএফ জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে হতাহতের কোনো ঘটনা না থাকলেও মার্চ মাসের শেষের দিন থেকে মৃত্যুর ঘটনা শুরু হয়। এর পর থেকে চলতি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মারা যায় ১৭৭ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই মারা গেছে ৬৫ জন।

এ বছর বজ্রপাতের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এই জেলায় চলতি বছরের মে ও জুন মাসেই মারা গেছে ১৮ জন। এ ছাড়া চলতি বছরের চার মাসে জামালপুরে ১৪ জন, নেত্রকোনায় ১৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ জন এবং চট্টগ্রামে ১০ জন মারা গেছে।

এসএসটিএএফ বজ্রপাত থেকে জনগণকে রক্ষায় ছয় দফা দাবি জানিয়েছে। বজ্রপাতের ১৫ মিনিট আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানতে পারে কোন কোন এলাকায় বজ্রপাত হবে। এ তথ্য মোবাইল ফোনে মেসেজ আকারে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এসএসটিএএফ। সংগঠনটি বলেছে, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুর হার যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যুর হার বজ্রপাতে। এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এই খাতে বরাদ্দ কম। মানুষের জীবন রক্ষার্থে এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

এসএসটিএএফ মাঠ, হাওর, বাঁওড় বা কৃষিকাজের ফাঁকা এলাকায় বজ নিরোধক দণ্ডসহ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে থান্ডার প্রটেকশন সিস্টেমের সব পণ্যে শুল্ক মওকুফের দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বজ নিরোধক দণ্ড স্থাপনের ঘোষণা, বজ নিরোধক ব্যবস্থা না থাকলে নতুন কোনো ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ ড. মুনির আহমেদ, আইডিইবির রিসার্চ ও টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো মনির হোসেন, এসএসটিএএফের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেলের নির্বাহী প্রধান আব্দুল আলীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট এমদাদ হোসাইন মিয়া, নির্বাহী পরিচালক রানা ভূইয়া ও নূরে আলম জিকু উপস্থিত ছিলেন। 



সাতদিনের সেরা