kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

পাশাপাশি ক্ষেতে দুই ভাইয়ের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে পাশাপাশি দুটি ধইঞ্চা ও পাটক্ষেত থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে দুই তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথমে তাঁদের পরিচয় পাওয়া না গেলেও দুপুর ১টার দিকে পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁরা সম্পর্কে খালাতো ভাই। কী কারণে বা কারা তাঁদের খুন করেছে, সেই বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি স্বজনরা। পুলিশও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হত্যাকারী শনাক্তসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তবে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে আটক করেছে।

হত্যার শিকার একজন হলো সাভার থানার যাদুরচর উত্তরপাড়া এলাকার রতন মিয়ার ছেলে মো. রায়হান হোসেন (১৭)। সে স্থানীয় হেমায়েতপুরের আল নাছির ল্যাবরেটরি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। অন্যজন রায়হানের খালাতো ভাই বরিশালের গৌরনদী থানার শেওরা গ্রামের নেছার মোল্লার ছেলে নাজমুল হোসেন (১৮)। তিনিও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত রায়হানের আত্মীয় শাবানা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, বৃহস্পতিবার নাজমুল বরিশাল থেকে তাঁর খালাতো ভাই রায়হানদের বাসায় হেমায়েতপুর বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যার পর তাঁরা বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। রাতভর তাঁরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের দুজনের সন্ধান পাননি। গতকাল সকালে ধইঞ্চা ও পাটক্ষেতে দুই তরুণের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাঁদের খবর দেন। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসে নাজমুল ও রায়হানের লাশ দেখতে পান তাঁরা।

ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই তরুণের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ দুটি ৫০-৬০ মিটার দূরত্বে দুটি ক্ষেতের মধ্যে পাওয়া গেছে।

ভাকুর্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রহমত আলী বলেন, ‘ভোরে হারুলিয়া গ্রামের ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে দুই তরুণের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাঁদের শরীরে রক্তের চিহ্ন রয়েছে। গলায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখেছি। মনে হয় রাতের কোনো একসময়ে লাশ এখানে ফেলা হয়েছে।’

সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পিবিআই, গোয়েন্দা শাখা ও থানার পুলিশের একাধিক টিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। সিআইডি, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ও গোয়েন্দা শাখার পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।