kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

অচল ফোনে সচল বিল!

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় রয়েছে ১২৪টি টেলিফোন সংযোগ। প্রায় ১০ বছর ধরেই গ্রাহকরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু টেলিফোন অচল থাকলেও প্রতি মাসেই গ্রাহকদের ন্যূনতম বিল আসছে।

বিটিসিএল সূত্রে জানা যায়, আঠারবাড়ী রায়েরবাজারে এনালগ (বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড) টেলিফোন একচেঞ্জ স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৮ সালের ১ জুলাই বিটিবিকে পুনর্গঠন করে নাম দেওয়া হয় বিটিসিএল। পর্যায়ক্রমে বৃহৎ এই বাজারটিতে ১২৪টি সংযোগ নেন গ্রাহকরা। ২০১১ সাল পর্যন্ত কোনোমতে বেশ কয়েকটি টেলিফোন সংযোগ চালু ছিল। এরপর থেকে পুরোপুরি অচল হয়ে যায় টেলিফোন সংযোগপ্রক্রিয়া।

টেলিফোন অচল দেখে স্থানীয় একচেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে তাঁরা মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতি মাসেই তাঁদের নামে ন্যূনতম টেলিফোন বিলের কাগজ আসছে। বেশ কয়েক বছর এভাবে প্রতি মাসে বিল এসেছে। তবে এখন পাঁচ-ছয় মাস পর পর একসঙ্গে বিল করে পাঠানো হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এসব বিলের কাগজ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। তাতে করে বকেয়া হয়ে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। আবার গ্রাহকদের অনেকে ভোগান্তি এড়াতে বকেয়া বিল পরিশোধ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করছেন। তবে আদৌ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে কি না তা তারা জানতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতিবার সকালে আঠারবাড়ী ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবনে তালা ঝুলছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, তাঁরা এখানে কাউকে আসতে দেখেন না। ভবনের সামনে চা দোকানি ওয়াসিম জানান, স্থানীয় রাকিব নামে একজন ভবনটির দেখভাল করেন। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করলে রাকিব জানান, তিনি এখানে ক্যাজুয়ালি কাজ করেন। মাস শেষে তাঁকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। আঠারবাড়ীতে কয়টি লাইন আছে জানতে চাইলে রাকিব বলেন, ‘আমার জানামতে ১২৪টি। তবে সবই নষ্ট।’

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একজন মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর আগে সংযোগ নিয়ে বছরখানেক কোনোমতে সেবা পাচ্ছিলেন। এরপর থেকেই অচল। কিন্তু প্রতি মাসেই ন্যূনতম বিল দিয়ে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অনেকবার চেষ্টা ছাড়াও স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা না পাওয়ায় কিছু করতে পারছেন না।

আজিজুল ইসলাম রাসেল নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে ময়মনসিংহ অফিসে গিয়ে আবেদন করে দুটি সংযোগের ২৪ হাজার টাকা ভূতুড়ে বিল জমা দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করেছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঠারবাড়ী এক্সচেঞ্জের লাইনম্যান আব্দুর রাশিদ বর্তমানে প্রেষণে গৌরীপুরে আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওইখানে থাইক্যা কী করবাম। গ্রাহকদের বকা শুনতে হয়। তাই প্রেষণে চলে এসেছি।’

বিটিসিএল ময়মনসিংহ অঞ্চলের ডিজিএম হানিফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, আঠারবাড়ীর সংযোগটি কেন্দুয়ার সঙ্গে সংযুক্ত। সেখানে সড়কের কাজ চলমান থাকায় সংযোগ লাইন কাটা পড়েছে। সড়কের কাজ তো গত পাঁচ মাস ধরে চলছে। আর টেলিফোন অচল গত ১০ বছর ধরে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। কেউ আমাকে জানায়নি। তা ছাড়া আমি অসুস্থ হয়ে ছুটিতে আছি।’

আঠারবাড়ী এক্সচেঞ্জ সরাসরি দেখভালের দায়িত্ব উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মুকিতের। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে এখানে যোগদান করেছি। কিভাবে লাইন সচল করা যায় তা খোঁজখবর নিয়ে দেখব।