kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

এস কে হাসপাতালের উন্নয়ন কি হবে না?

ময়মনসিংহে ডায়রিয়া রোগের একমাত্র হাসপাতাল

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহ নগরে ১০-১৫ বছরে অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়ন হয়েছে, বেড়েছে সেবার মান। কোথাও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। কোথাও বেড়েছে জনবল। কোথাও যুক্ত হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি এস কে হাসপাতালে। শতাধিক বছরের পুরনো এই হাসপাতালে বর্তমানে সংক্রামক রোগ ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকর, ডিপথেরিয়া ও হামের চিকিৎসা হয়। তবে জেলাবাসী এটিকে ডায়রিয়া হাসপাতাল হিসেবেই চেনে। কারণ ডায়রিয়ায় আক্রান্তরা এখানেই চিকিৎসা নিতে আসে। নগরের অনেক প্রবীণ নাগরিকের ভাষায়, ৩০ বছর আগে হাসপাতালটি যেমন দেখেছিলাম এখনো সে রকমই আছে। হাসপাতালটির উন্নয়ন কী কোনো দিনই হবে না!

ময়মনসিংহ নগরের ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এস কে হাসপাতালের যাত্রা শুরু ১৮৯৮ সালে। হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা এ অঞ্চলের জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত। পরে সূর্যকান্তর (সংক্ষেপে এস কে) নামেই হাসপাতালটি পরিচিতি হয়। ১৯৬২ সালে হাসপাতালটি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের অধীনে চলে যায়। এখনো এটি মমেক হাসপাতালের অধীনে একটি সংক্রামক রোগের ইউনিট।

এস কে হাসপাতালে চিকিৎসক বা সেবিকাদের (নার্স) নিয়ে রোগীদের ও ময়মনসিংহবাসীর তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা আন্তরিকভাবেই চিকিৎসাসেবা দেন। অভিযোগ হলো এর পরিবেশ নিয়ে। ডায়রিয়া রোগীদের অনেকেই স্যালাইন পুশ করে বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে নোংরা পরিবেশের জন্য। অনেকে মনে করে, তারা এখানে দীর্ঘক্ষণ থাকলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে। কষ্টের শিকার হয় রোগীর স্বজনরাও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এস কে হাসপাতালের ভবনটি পুরনো। ভ্যাপসা গরম ওয়ার্ডের ভেতরে। জরাজীর্ণ ভবনের প্লাস্টার ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ছে। বিছানা ও করিডর নোংরা। বালিশ, ফোম, প্লাস্টিক দীর্ঘদিনের ব্যবহার করা। লোহার খাটও পুরনো। বিছানা (বেড), বৈদ্যুতিক বাতি-পাখা, দরজা-জানালার অবস্থা তেমন ভালো নয়। টয়লেটগুলোর অবস্থা চরম খারাপ। উন্নয়ন বলতে মাঝেমধ্যে ভবনটির ভেতরে-বাইরে চুনকামের দৃশ্য চোখে পড়ে। অভিযোগ আছে, এখানে পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। ওয়ার্ডবয়দের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন আছে।

সূত্রে জানা যায়, এস কে হাসপাতালে চিকিৎসক-সেবিকারা মূলত মমেক হাসপাতালের কর্মী (স্টাফ)। সেখান থেকে এখানে তাঁদের পোস্টিং দেওয়া হয়। এখানে ১৪৬টি বেড থাকলেও ডায়রিয়া রোগীই বেশি থাকে।

মমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. ওয়ায়েজ উদ্দীন ফরাজী বলেন, এস কে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার বিষয়টি তাঁরা দেখভাল করেন। মাঝেমধ্যে সংস্কারকাজও করেন। এর সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে ময়মনসিংহবাসী সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারে। এর বিশাল জায়গায় একটি জেলা হাসপাতালও হতে পারে।



সাতদিনের সেরা