kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

বাজেটে সুবিধা না দেওয়ায় কমেনি পণ্যের দাম

আমদানির খবরে কমেছে পেঁয়াজের দাম

রোকন মাহমুদ   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজেটে সুবিধা না দেওয়ায় কমেনি পণ্যের দাম

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভোক্তা সাধারণের জন্য কোনো সুখবর নেই। নিত্যপণ্যের দাম কমাতে নেই কোনো উদ্যোগও। ফলে পণ্যের আগের বাড়তি দাম বাজেট ঘোষণার পর না কমে আরো বেড়েছে। পশু-পাখির খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াতসহ পরোক্ষ সুবিধা পেয়ে যেসব পণ্যের দাম কমার কথা ছিল, সেগুলোর দামও বেড়েছে। আমদানি করা যেসব সবজিতে নতুন করে শুল্ক বসানো হয়েছে, বাজেট ঘোষণার পর সেগুলোর দাম হু হু করে বেড়েছে। বাজারের এমন পরিস্থিতির মধ্যে চলছে টানা বৃষ্টি। এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে অনেক নিত্যপণ্যের দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, তেল, তরি-তরকারি, মাছ-মাংসের দাম বেড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গেল সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেল, পাম অয়েল সুপার, দুই ধরনের মসুর ডাল (বড় ও মাঝারি দানা), ডিম, ব্রয়লার মুরগি, আমদানি করা আদা, দেশি রসুন ও লবঙ্গ—এই ৯ ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ব্যতিক্রম পেঁয়াজে। বেনাপোল দিয়ে আমদানি শুরুর খবরে দাম কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের।

গতকাল রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেজি দরে গাজর পাওয়া গেলেও বাজেটের পর দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। আমদানি করা গাজরের দাম আরো বেশি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। একইভাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির টমেটোর দাম বেড়ে বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার যমুনা ভাণ্ডারের মালিক মো. দিপু বলেন, গাজর ও টমেটোর আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে আমদানি করা গাজর ও টমেটোর সঙ্গে দেশি গাজর ও টমেটোর দামও বেড়েছে।

অন্য সবজিতে শুল্কের চাপ না থাকলেও বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান খিলগাঁও বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে মোকামে মাল তুলতে পারছে না ব্যাপারীরা। এ কারণে সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বাড়তি।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসা, বেগুন, পটোল, কচুর লতি, ঢেঁড়স, ঝিঙা, করলা, কাঁচা পেঁপেসহ বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বরবটির দাম বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাঁচকলার হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লাউয়ের পিস ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজেটে পোল্ট্রি ও পশু খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোক্তাসাধারণ আশা করেছিলেন মাংসের দাম হয়তো কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। আগের সপ্তাহে বেড়েছে মুরগির ডিমের দাম। ডজনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চলতি সপ্তাহেও। নতুন করে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের দাম আগেই কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা করে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

চাল বিক্রেতা মুগদা বাজারের মরিয়ম স্টোরের মালিক মো. আলমগীর বলেন, চালের বাজার একটু একটু করে বাড়ছে। চিকন-মোটা সব ধরনের চালের বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সপ্তাহখানেক আগে যে মিনিকেট চাল ৫৬ থেকে ৫৭ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি, এখন এক টাকা বাড়তিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। একইভাবে মাঝারি মানের আঠাশ চালও কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে।

তেল, চিনি, ডালের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও গত দু-তিন মাস ধরে এর প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আশা করেছিলেন, বাজেটে কর রেয়াত দিয়ে দামের লাগাম টানা হবে। কিন্তু বাজেটে এসংক্রান্ত কোনো আলোচনা নেই। ফলে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বেড়ে ৬৬০ থেকে ৭২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা