kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

‘ফোন বন্ধ হয়ে গেলে চিন্তা কোরো না’

এর পরই নিখোঁজ নটর ডেম কলেজের ছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফোন বন্ধ হয়ে গেলে চিন্তা কোরো না’

গাজীপুরের বাসা থেকে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে গিয়েছিল ঢাকার নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল। কলেজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে গিয়ে জুয়েল এখনো গাজীপুরের বাসায় ফেরেনি। নটর ডেমের ওই ছাত্র তিন দিন ধরে নিরুদ্দেশ থাকায় উদ্বিগ্ন তার পরিবার। জুয়েল গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম সালাউদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জুয়েল সবার ছোট।

বড় বোন ব্যাংক কর্মকর্তা আসমা বিনতে সালাউদ্দিন জানান, অ্যাসাইনমেন্ট জমা ও ফরম ফিলাপ সম্পর্কিত কাজের জন্য গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কলেজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় জুয়েল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বড় ভাইকে ফোন দিয়ে বলে, ‘কাজ শেষ, এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি। মোবাইল ফোনে চার্জ কম। যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি ফোন বন্ধ হয়েও যায়, চিন্তা কোরো না।’ রাত ৮টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় কল দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আসমা বলেন, ‘ওই দিনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাসায় ফেরেনি জুয়েল। তার মোবাইল ফোনটি এখনো বন্ধ। ও খুবই সরল প্রকৃতির ছেলে। ঘটনার দিন রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে আমরা তাকে খুঁজতে বের হই। খুঁজে না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে শহরের সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। সে গাজীপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী গাজীপুর পরিবহনে যাতায়াত করে। কাউন্টারে গিয়ে খোঁজ করে জানতে পারি, ওই দিন গাজীপুর পরিবহনের কোনো বাস পথে দুর্ঘটনায় পড়েনি। তারপর ঢাকার সব হাসপাতালে খুঁজেছি। ঢাকাসহ আশপাশের কোথাও পুলিশ অচেনা লাশ উদ্ধার করলে ছুটে গিয়েছি। তন্নতন্ন করে খুঁজেও এখনো ভাইকে কোথাও পাইনি।’

এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার এসআই সমির হোসেন খান জানান, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে কলেজে যাওয়ার পর এক পর্যায়ে জুয়েল সহপাঠী ফারহান, শাফিন ও রুদ্রকে নিয়ে লালবাগ কেল্লা দেখতে যায়। ওই দিন কেল্লা বন্ধ থাকায় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘোরে। দুপুরে চার বন্ধু একসঙ্গে আবার ক্যাম্পাসে ফেরে। তারা কলেজের নোটিশ বোর্ডে গিয়ে সেমিস্টার পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে পায়। চার বন্ধুরই ফল ছিল খারাপ। এ নিয়ে জুয়েলের মন সবেচয়ে বেশি খারাপ ছিল। বিকেলে ফারহান ও শাফিন নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। পরে রুদ্র ও জুয়েল একসঙ্গে কিছুক্ষণ ছিল। এক সময় রুদ্র আরামবাগের বাসায় চলে যায়। তারপর জুয়েল কোথায় গেছে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসআই সমির আরো জানান, সে অপহৃত  হয়েছে, না স্বেচ্ছায় কোথাও চলে গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তার ফোনের কললিস্ট চাওয়া হয়েছে। কললিস্ট পেলে অনেক কিছু বের হয়ে আসতে পারে। তাকে উদ্ধারের সব চেষ্টা করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা