kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

‘হাতে-পায়ে ধরলাম, ওরা বাবাকে ছাড়ল না’

মুন্সীগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে মারধর, ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ি থেকে গত বুধবার বিকেলে বের হয়েছিলেন ব্যবসায়ী মো. নয়ন মিজি। এর আধাঘণ্টা পরই তাঁর পরিবার খবর পায়, তাঁকে ধরে নিয়ে গেছেন এক ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁর সহযোগীরা। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে দেখতে পায়, তাঁকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। তারা অনেক অনুরোধ করেও হামলাকারীদের থামাতে পারেনি। বরং তাদের সামনেই নয়নের হাত-পা ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। নয়নকে আর বাঁচানো যায়নি। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মো. নয়ন মিজি (৩৫) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের উত্তর কাজী কসবা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল বাতেন মিজির ছেলে। নয়নের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন রামপাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত শেখ (২৮) এবং প্রান্তর সহযোগী চঞ্চল (৩২), শোভন (৩২), রনি (৩২), কাঞ্চন (২৬) এবং আরো বেশ কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও স্থানীয় লোকজন জানায়, নয়ন এলাকায় মুরগির খামারের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি কবুতর পালতেন। কয়েক মাস আগে তাঁর খামারে চাঁদা চাইতে যান প্রান্ত শেখ, শোভন, কাঞ্চন ও রনিরা। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব হয়। নয়ন ও তাঁর লোকজন প্রান্ত ও সহযোগীদের মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত প্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং থানায় নয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। এর প্রতিশোধ নিতেই গত বুধবার প্রান্তরা নয়নকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটান বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের।

নয়নের ছোট বোন পিংকি আক্তার জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তাঁর ভাই নয়ন বাড়ি থেকে বের হন। এর আধাঘণ্টা পরই তাঁরা জানতে পারেন, উত্তর কাজী কসবা প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে প্রান্ত শেখ ও তাঁর সহযোগী রনি, কাঞ্চনরা নয়নকে তুলে নিয়ে গেছেন। পরে তাঁরা সিপাহিপাড়া এলাকার একটি স্কুলের কাছে গিয়ে দেখেন, প্রান্তরা কাঠের ডাসা দিয়ে নয়নকে পেটাচ্ছেন। পিংকি বলেন, ‘আমরা ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। রাস্তায় গিয়ে পুলিশ ডাকি। পুলিশের উপস্থিতি দেখে ওরা পালিয়ে যায়।’

নয়নের ছোট মেয়ে নিজুম (১০) বলে, ‘আমাদের চোখের সামনে আমার বাবাকে ওরা মারল। বাবার হাত-পা, মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমরা কত হাতে-পায়ে ধরলাম। আমার বাবাকে ওরা ছাড়ল না। যখন ছাড়ল বাবা আর চোখ খুলে দেখল না। আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

 



সাতদিনের সেরা