kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

হিসাবে ন্যূনতম ব্যালান্সে ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ নিয়ে মাস্টার সার্কুলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হিসাবে ন্যূনতম ব্যালান্সে ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে আরোপিত ন্যূনতম ব্যালান্স ফি, আনুষঙ্গিক চার্জ, লেজার ফি, সার্ভিস চার্জ, কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি বা অনুরূপ ফি আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে আরো কয়েকটি সেবার চার্জ আদায় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আরো কিছু সেবার চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ব্যাংকের চার্জ নিয়ে মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন এমন অনেক সেবা ব্যাংকগুলো চালু করেছে, যেগুলোর চার্জ আগের সার্কুলারে নির্ধারিত ছিল না। ফলে ব্যাংকগুলো এসব সেবায় ইচ্ছামতো চার্জ আদায় করত। তা ছাড়া আগের সার্কুলার এত আগে হয়েছে যে ওই সময় অনেক ব্যাংকের জন্মও হয়নি। তাই এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে যত ধরনের সেবা চালু হয়েছে, সেগুলোতে কোন ব্যাংক কত চার্জ নিচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা লাভবান হন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, চার্জের হালনাগাদ তালিকা নিজ নিজ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, সব শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দর্শনীয় স্থানে এবং ব্যাংকের ওয়েবসাইটের হোম পেজে প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিবছর ৩০ জুন ও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে (ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে) পরবর্তী ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-জুন) ঘোষিত চার্জ, ফি ও কমিশনের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে।

মাস্টার সার্কুলার অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রে অ্যাক্টিভেশন অব ডরমেন্ট অ্যাকাউন্ট বাবদ কোনো ফি আদায় করা যাবে না। মাসিক সঞ্চয়ী হিসাব বা এফডিআর বা অন্য কোনো মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে নগদায়ন ফি বা অনুরূপ ফি আরোপ করতে পারবে না ব্যাংক। সঞ্চয়ী হিসাবে ৫০০ টাকা এবং চলতি হিসাব খোলার ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন গ্রাহক। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জমার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সঞ্চয়ী হিসাবে গড় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি আদায় করা যাবে না। তবে ১০ হাজার টাকার অধিক গড় আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ৩০০ টাকা চার্জ আদায়ে কর্তন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এ ছাড়া চলতি হিসাবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং স্পেশাল নোটিশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা চার্জ নেওয়া যাবে। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবগুলোতে কোনো প্রকার হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি আদায় করা যাবে না।

হিসাব বন্ধকরণের ক্ষেত্রে হিসাব বন্ধকরণ চার্জ হিসেবে সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং এসএনডি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা আদায় করা যাবে। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবগুলোতে হিসাব বন্ধকরণ বাবদ কোনো ফি আদায় করা যাবে না। বিভিন্ন ধরনের হিসাবের বিপরীতে চেক বই ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণ করতে হবে। চেক বই হারানোর ক্ষেত্রে নতুন চেক বই ইস্যু বাবদ প্রকৃত খরচ ছাড়া অতিরিক্ত চার্জ বা প্রসেসিং ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সচ্ছলতা সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ফি আদায় করা যাবে।  চেক ফেরতের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ টাকা চার্জ আদায় করা যাবে। বিও সনদ খোলার ক্ষেত্রে বিও সনদ প্রদানের চার্জ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা আদায় করা যাবে। গ্রাহক কর্তৃক অর্থ প্রদান নির্দেশনা স্থগিতকরণ চার্জ প্রতিবার অনুরোধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং অর্থ প্রদান নির্দেশনা স্থগিতকরণ বাতিলের ক্ষেত্রে প্রতিবার অনুরোধে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা আদায় করা যাবে।

ঋণ আবেদন ফি নামে কোনো চার্জ আদায় করা যাবে না। তবে ঋণ প্রসেসিং ফি হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মোট মঞ্জুরীকৃত ঋণের সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ আদায় করা যাবে। তবে এর পরিমাণ ১৫ হাজার টাকার অধিক হবে না। ৫০ লাখ টাকার অধিক পরিমাণ ঋণের ক্ষেত্রে এই হার হবে সর্বোচ্চ ০.৩০ শতাংশ। তবে এর পরিমাণ ২০ হাজার টাকার অধিক হবে না।

রপ্তানি ঋণসহ যেকোনো ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে সুদ বা মুনাফা হারের অতিরিক্ত কোনো সার্ভিস চার্জ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ফি, মনিটরিং/সুপারভিশন চার্জ, ঝুঁকি প্রিমিয়াম বা অনুরূপ অন্য যেকোনো নামে অতিরিক্ত কোনো চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।