kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত বাড়িমালিক গ্রেপ্তার

পৃথক স্থানে দেড় মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ

রাজবাড়ী ও অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের অভয়নগরে এক ভাড়াটিয়া নারীকে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি কাউকে জানালে ভুক্তভোগীর দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেন বাড়ির মালিক। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে রাজধানী ঢাকা থেকে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে দেড় মাস রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকার রাবেয়া টাওয়ারে আটকে রেখে ধর্ষণ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়ও অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অভয়নগরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটে। সকালে ভুক্তভোগী অভয়নগর থানায় মামলা দায়েরের পর আসামি বিটু আহম্মেদকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। বিটু উপজেলার মশরহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে। ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ও দুই সন্তান রেখে আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর সন্তানদের নিয়ে তিনি বিটুর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন ধরে বিটু তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর বিটু তাঁকে (ভুক্তভোগী) তাঁর ঘরের দরজা খুলতে বলেন। তিনি দরজা খোলামাত্র বিটু তাঁর হাতে থাকা মাংস কাটায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি করলে তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে হত্যার হুমকি দেন। সকাল হওয়ার পর তিনি কৌশলে পালিয়ে অভয়নগর থানায় যান।

তবে বিটু আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’

অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মণ্ডল কালের কণ্ঠকে জানান, ভুক্তভোগীকে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার রুহুল আমিন (৩১) ফরিদপুর জেলা শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকার টাটা কম্পানির ডিলার ‘বিসমিল্লাহ মটরস’ এর মালিক। এ ঘটনায় গতকাল সকালে ভুক্তভোগী (২২) রুহুল আমিনকে আসামি করে রাজবাড়ী থানায় মামলা করেছেন।

মামলার বাদী জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে রুহুলের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরই মাঝে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। গত ১৮ এপ্রিল তিনি বিয়ের সাজ সাজতে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার একটি বিউটি পার্লারে যাচ্ছিলেন। এ সময় রুহুল তাঁকে বিয়ের কথা বলে ঢাকার অজ্ঞাতপরিচয় বাসায় নিয়ে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত আটকে রাখেন। পরে তাঁকে রাজবাড়ী শহরের রাবেয়া টাওয়ারের অষ্টম তলায় একটি বাসায় নিয়ে তোলেন। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন। তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে রুহুল তাঁকে মারধর করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। ৮ জুন রাতে রুহুল তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি রাজবাড়ী থানার পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়।

থানা হাজতে আটক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, রুহুল আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।