kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

১৬৩ ইউপি ও ৯ পৌরসভার ভোট স্থগিত

২৮ জুলাই তিন আসনে উপনির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 ২৮ জুলাই তিন আসনে উপনির্বাচন

করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ১৬৩ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ৯ পৌরসভার ভোট আবারও স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউপিগুলো হচ্ছে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার। জাতীয় সংসদের শূন্য তিনটি আসন অর্থাৎ ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনের ভোটও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে এই তিন আসনে ভোট হবে ২৮ জুলাই। তবে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন, প্রথম ধাপের অন্য ২০৪টি ইউপি ও দুই পৌরসভার ভোট আগামী ২১ জুনই অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারিতে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আইইডিসিআরের সুপারিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আগামী ২১ জুন ৩৭১ ইউপি, ১১ পৌরসভা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের কথা ছিল। এর মধ্যে প্রার্থী মারা যাওয়ায় চার ইউপির ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, প্রথম ধাপের জন্য নির্ধারিত খুলনা বিভাগের সব ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের ৬৮ ইউপি, খুলনা জেলার ৩৪ ইউপি, সাতক্ষীরার ২১ ইউপি, নোয়াখালীর ১৩ ইউপি, চট্টগ্রামের ১২ ইউপি ও কক্সবাজার জেলার ১৫ ইউপি।

নির্বাচন বাকি থাকা ১১টি পৌরসভার মধ্যে দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠির সদর পৌরসভার নির্বাচন যথাসময়ে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। অন্য ৯ পৌরসভার ভোট করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

আইইডিসিআর অধিকতর উচ্চ ঝুঁকির যে জেলাগুলোর নাম উল্লেখ করেছে, সেগুলো হলো চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, কক্সবাজার, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, ফেনী, গোপালগঞ্জ ও মেহেরপুর।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে থাকায় ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে। আইইডিসিআরের উল্লেখিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাইরে বরিশালসহ সবখানে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে।’

ভোটের স্থগিতাদেশ কত দিন থাকবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি সচিব।

গতকালের ইসি সভায় দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এ বিষয়ে সচিব বলেন, ‘এখনো অনেক সময় রয়েছে। অনেক এলাকায় ঝুঁকিও রয়েছে। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের বিষয়ে ইসি সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি।’

যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট আটকে আছে সেখানে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা বহাল থাকবেন কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার বিভাগের বিষয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী এ ধরনের পরিস্থিতিতে আগের নির্বাচিতদের আরো ৯০ দিন দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সময়ের পর কাকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে সে বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগ দেখবে।’

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১১ পৌরসভার ভোট প্রথমে গত ১১ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এর আগেই ভোট স্থগিত করা হয়।