kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আরো ৫৩ হাজার ৩৪০ গৃহহীন ফিরবে নীড়ে

মোবারক আজাদ    

১০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো ৫৩ হাজার ৩৪০ গৃহহীন ফিরবে নীড়ে

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেউ আর গৃহহীন থাকবে না। এমনই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি চলমান। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২০ জুন আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে গৃহহীনদের তালিকা করে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে এই ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের অধীনে ঘর হস্তান্তরের বিষয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বাজার সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নে ২৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এই ঘর পাবে। পুনর্বাসন পাওয়ার পর এসব পরিবারের সদস্যদের আয় বাড়ানোর কাজে নিয়োজিত রাখতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের কাজ চলছে।

শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান বলেন, যুগের পর যুগ যে মানুষগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, তাদের সরকার যে উপহার দিচ্ছে এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছুই হতে পারে না।

এ সময় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব হাসান জাহিদ তুষার, শিবালয় নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্পের খাসজমিতে কয়েক যুগ ধরে চালা ঘরে বাস করছিলেন রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘কখনো এমন ঘর পামু ভাবি নাই। সরকারের জন্য হাজার কোটিবার দোয়া করি আমাদের জন্য এমন সুন্দর সুন্দর ঘর করার জন্য।’

মন্নাফ নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘জন্মের পর থেইকা এখানেই কোনো রকমে ছিলাম। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ সবই গেছে আমাদের শইলের উপর দিয়া। এমন ঘর পাইতে যাচ্ছি, যা আমাদের জীবনের সেরা পাওয়া। এখন শুধু দিন গুনতাছি কবে পামু।’

সুমন নামের এক যুবক বলেন, ‘আমাদের অভাবের শেষ নাই। এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইলে আশা করি জীবনটা বদলাই দিতে পারব। আমাদের বাবা-দাদারা অনেক কষ্টে দিন যাপন করছে।’

জানা যায়, প্রতিটি বাড়ি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাড়ির সমতলের গৃহহীনকে নতুন ঘরে আসবাব স্থানান্তরের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং পাহাড় ও হাওর অঞ্চলের গৃহহীনকে সাত হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেশের ভূমি-গৃহহীনদের জমি ও ঘর দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর দেওয়া হয়। সব পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমির মালিকানা দিয়ে সেখানে আধাপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ২১ জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৭৪৩টি ব্যারাকে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়।



সাতদিনের সেরা