kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাজশাহীতে আইসিইউ না পেয়ে মরছে রোগী

শয্যা ফাঁকা না থাকায় মেঝেতে চিকিত্সা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীতে আইসিইউ না পেয়ে মরছে রোগী

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) শয্যার চাহিদা। বর্তমানে আইসিইউতে ১৮টি শয্যার স্থলে রোগী আছে ১৭ জন। একটি শয্যা ভিআইপিদের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। কিন্তু ১৭টি শয্যা পূরণ থাকায় সিরিয়ালে আছে আরো অন্তত অর্ধশত রোগী। শয্যা নতুন করে ফাঁকা না হওয়ায় এসব রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের শয্যায় বা মেঝেতে পড়ে থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে রোগীরা। তাদের শরীরে অক্সিজেন সংকট তীব্র। এ ছাড়া তারা উচ্চ রক্তচাপ, শাস্বকষ্টসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছে। রোগীকে আইসিইউতে নিতে স্বজনরা ছোটাছুটি করছে হাসপাতালজুড়ে। যার যেমন ক্ষমতাবান লোক আছে, তাদের দিয়ে ততটা জোরালো অনুনয়-বিনয় করছে। কিন্তু শয্যা ফাঁকা না হওয়ায় আইসিইউ যেন রোগীর স্বজনদের কাছে সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিত্সাধীন জিয়ারুল ইসলাম নামের এক রোগীর স্বজন আলমগীর হোসেন জানান, তাঁর রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে ওই ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন। হঠাৎ করে তাঁর রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। শরীরে অক্সিজেন সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় ওই ওয়ার্ডের চিকিত্সকরা রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী গত মঙ্গলবার সকালে আইসিইউতে সিরিয়ালও দেওয়া হয়েছে। সিরিয়াল নম্বর হয়েছে ৩৬। কিন্তু শয্যা ফাঁকা না হওয়ায় গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া সম্ভব হয়নি। রোগীর স্বজন আলমগীর হোসেন বলেন, ‘একটি বেড পেতে দুই দিন ধরে নানাভাবে চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছি; কিন্তু বেড ফাঁকা না থাকায় সেটি পাচ্ছি না। আইসিইউর ভেতরে থাকা কোনো রোগী মারা গেলে বা কিছুটা সুস্থ হলেই বেড ফাঁকা হচ্ছে; কিন্তু সে ক্ষেত্রেও আমাদের আগেই সিরিয়াল জমে আছে ত্রিশের ওপরে। তাহলে আমাদের রোগীকে কখন নেওয়া হবে আইসিইউতে! দেখা যাবে, আইসিইউতে নেওয়ার আগেই রোগী মারা গেছে।’

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মারা যাওয়া রোগীর স্বজন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার রোগীকেও আইসিইউতে নিতে বলেছিলেন চিকিত্সকরা; কিন্তু চার দিন ঘুরেও আইসিইউ বেড পাইনি। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে রোগীটি মারা গেছেন।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালের ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, রামেক হাসপাতালে গতকাল সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিল এক হাজার ১৮২ জন রোগী। তাদের মধ্যে ২৭৭ জন রোগী করোনা ও উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সাধীন, যা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। করোনা আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত ১৮টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ১৭টিতেই রোগী চিকিত্সাধীন ছিল। এর বাইরে আইসিইউর শয্যায় নিতে হবে—এমন রোগীর জন্য সিরিয়াল দেওয়া ছিল আরো প্রায় অর্ধশত।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত আটজনের মধ্যে চারজনের করোনা পজিটিভ ছিল। অন্য চারজন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি রাজশাহী। একজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীর আরো দুজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন মারা গেছে। এদিকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ২২৭ জন রোগী ভর্তি ছিল। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ৩৫ জন করোনা রোগী।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউতে ১৮টি শয্যা আছে। এর মধ্যে একটি আছে ভিআইপিদের জন্য। আরো দুটি শয্যা স্থাপনের জন্য কাজ চলছে। তবে ১৭টিতেই এক মাস ধরে রোগীকে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। একটি ফাঁকা হলেই পরের সিরিয়ালে থাকা রোগীকে নেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ রোগীকেই একেবারে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।’



সাতদিনের সেরা