kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

টেলিযোগাযোগ খাতে কর সম্পর্কিত দাবি পুনর্বিবেচনার আহ্বান এমটবের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে টেলিযোগাযোগশিল্প সর্বাত্মক ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে এই শিল্পের কোনো সুপারিশই মূল্যায়ন করা হয়নি, যা দুঃখজনক। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের নেতারা গতকাল মঙ্গলবার বাজেট-পরবর্তী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন। টেলিযোগাযোগ খাতের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

টেলিযোগাযোগশিল্প প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় উল্লেখ করে এমটবের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, ২০১৯ সালে মোবাইল ফোন বাজারের রাজস্ব ছিল দেশের জিডিপির ১.১ শতাংশ এবং এই খাতের কর ও ফি প্রদানের পরিমাণ ছিল মোট সরকারি কর রাজস্বের প্রায় ৪.৪ শতাংশ। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি। তাই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির অন্যতম শর্ত হচ্ছে মোবাইল খাতে করকাঠামোর সংস্কার। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার ১০ শতাংশ বাড়লে মাথাপিছু জিডিপি বাড়বে ২.৪৩ শতাংশ। 

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে রয়েছে—অলাভজনক অপারেটরের ওপর ন্যূনতম ২ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স প্রত্যাহার বা যুক্তিসংগত করা, উচ্চ করপোরেট করের হার যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত অপারেটরদের কর ২৫ শতাংশ এবং ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা, সরাসরি অপারেটর বিলিং থেকে পরিপূরক শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহার, সব ইনট্যানজিবল সম্পদের ওপর এমোরটাইজেশন সুবিধা প্রদান, মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ২০০ টাকা কর বিলুপ্ত করা, প্রতি ১০০ টাকা টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাট, এসডি ও সারচার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য ভ্যাট ছাড় সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর আরোপিত সুদ যৌক্তিক করা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘টেলিকম অপারেটরদের যুক্তিসংগত কয়েকটি দাবি প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচিত না হওয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি। এই খাতে কর হার বাস্তবসম্মতভাবে কমানো হলে বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে উত্সাহিত হবে।’

গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর এবং হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারিতে টেলিযোগাযোগ খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এটি সবাইকে সব সময় যোগাযোগের আওতায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমাদের বিশ্বাস, করব্যবস্থাকে যৌক্তিক পর্যায়ে ঢেলে সাজালে ডিজিটাল যাত্রা আরো গতিশীল হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আমাদের অবদান আরো সমৃদ্ধ হবে।’

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো সামগ্রিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উত্থাপন করা সত্ত্বেও একটি শিল্প হিসেবে প্রতি বাজেটেই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই এই খাতের করকাঠামো নিয়ে বিশদ গবেষণা পরিচালনার জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাই।’



সাতদিনের সেরা