kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

বাথরুমে ঢাবি ছাত্রীর লাশ

ুঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাথরুমে ঢাবি ছাত্রীর লাশ

২১ বছরের চঞ্চল মেয়েটি আগের দিনও দুরন্তপনা করতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন। আজ তিনি লাশবাহী গাড়িতে। স্বাভাবিকভাবেই সহপাঠীদের কাছে তুষ্টির মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পলাশী সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাথরুম থেকে ইশরাত জাহান তুষ্টি (২১) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ থাকায় তিনি সেখানে সাবলেটে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। গতকাল রবিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

তুষ্টির বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে। বাবার নাম আলতাফ উদ্দিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব হলে সংযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে হল বন্ধ থাকায় তিনি পলাশী সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

জানা যায়, তুষ্টি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত শনিবার জরুরি এক কাজে তিনি ক্যাম্পাসে যান। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে যান। বাসায় ফিরেই তিনি রুমমেটদের বলছিলেন তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে।

তুষ্টিসহ তিন বান্ধবী ওই রুমে থাকতেন। রুমমেটদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাহনুমা তাবাসসুম রাফি। তিনি বলেন, ‘তুষ্টির শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল তা আগে জানতাম না। গতকাল বিকেলে বৃষ্টিতে ভেজার পরই জানতে পারি। রাতে ঘুমানোর সময় দেখলাম তুষ্টি ফোন ব্যবহার করছে। ভোরে বাসার আন্টির ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙে। আন্টি আমাদের জিজ্ঞাসা করেন, বাথরুমের দরজা বন্ধ কেন? অনেকক্ষণ ধরে পানি পড়ছে। তখন আমরা দেখি বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ আর তুষ্টি তার বেডে নেই। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করেও দরজা খুলতে না পেরে আমরা ফায়ার সার্ভিসে কল দিই। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘তুষ্টির শরীরে জখমের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা এই মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে।’

এদিকে তুষ্টির মৃত্যু সংবাদে নেত্রকোনায় গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবি জানান। সন্তানহারা মা হেনা আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আর খবর পেয়েই ঢাকায় চলে এসেছেন বাবা আলতাফ উদ্দিন (আলতু মিয়া)।

চাচা ইমাম হোসেন বলেন, ‘তুষ্টি ধর্মরায় রামধনু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ ৫) পেয়ে এসএসসি পাস করে। এরপর মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ ৫) এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সে খুব মেধাবী ছিল। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বড় ভাই মাসুদ সৌদি আরবে থাকে, ছোট ভাই তুর্জয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আরেক ভাই মাহির বয়স ছয় বছর। মা হেনা আক্তার গৃহিণী। বাবা আলতু মিয়া ধান-চালের ব্যবসা করেন।’



সাতদিনের সেরা