kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদরাসা অধ্যক্ষ

পৃথক স্থানে শিশু ও তরুণীকে নিপীড়ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বানাইল কলেজপাড়ার হযরত ফাতেমা (রা.) হাফেজিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মাওলানা আবদুর রহমান মিন্টু। প্রতিষ্ঠানটির এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম। শুধু তা-ই নয়, এর আগে তিনি মাদরাসাটির তিন-চারজন ছাত্রীকে একইভাবে ধর্ষণ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। মান-সম্মানের ভয়ে ওই সব পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়নি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পোশাক কারখানার এক শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর সহকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাবনার চাটমোহরের একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশু (৬) ধর্ষণের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিবগঞ্জে গত রবিবার রাতের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার মাওলানা আবদুর রহমান মিন্টু (৩২) উপজেলার বিহার ইউনিয়নের পারলক্ষ্মীপুর চানপাড়া গ্রামের মৃত সোলাইমান আলীর ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত মিন্টুকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবাসিক মাদরাসাটির হলরুমে ১১-১২ জন ছাত্রী একসঙ্গে থাকত। হলরুমের পাশেই সপরিবার থাকেন মিন্টু। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে মিন্টু হলরুমে ঢুকে এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরদিন মেয়েটি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে ঘটনাটি জানালে তারা এসে মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

বন্দরে গ্রেপ্তার জিসান (২০) উপজেলার জিওধরা এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী পোশাককর্মীর (১৯) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই জিসানকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানার পুলিশ। ভুক্তভোগী জানান, একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে জিসান তাঁকে প্রায়ই বিয়ে ও প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। প্রথমে তিনি আগ্রহ না দেখালেও পরে সাড়া দেন। গত ১৫ মার্চ রাতে জরুরি কথা আছে বলে জিসান তাঁকে বন্দরের কল্যান্দী এলাকায় তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন জিসান। এ সময় জিসান তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

চাটমোহরে গত সোমবার বিকেলের ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফুল উপজেলার নেংড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশ প্রহরী। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ছাত্রীর (১১) নানি ওই দিন রাতেই চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া মঙ্গলবার তিনি চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টারের কাছে অভিযোগ করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেলে অফিশিয়ালি যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা নেব।’

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গত শুক্রবারের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মামলার পর সেলিম হায়দার (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার সুবিধপুর ঘোষপাড়ার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। গতকাল সেলিমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া এবং প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ, চাটমোহর (পাবনা) ও কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি]