kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

অভিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ইউজিসির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ইউজিসির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনীহা দুর্নীতি-অনিয়মের যোগসাজশের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে এটা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহির অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিফলন।

টিআইবি মনে করে, এমন পরিস্থিতি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ও জাতীয় জীবনে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি খুবই হতাশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাদান, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার পরিবর্তে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী দলদাস তথাকথিত শিক্ষকের কারণে রাজনীতির স্বার্থ রক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পৃক্ততা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য হওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেওয়া যায় না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কতিপয় উপাচার্যসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নয় বরং ক্ষমতাসীন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকেন।’

‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্ত একজন উপাচার্যকেও যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হতো, তাহলে অন্য উপাচার্যরাও অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়ানোর সাহস করতেন না’—ইউজিসির একজন সদস্যের এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে টিআইবি আরো বলেছে, কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে ২৫টি, আবার কারো বিরুদ্ধে ৪৫টি পর্যন্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বতঃপ্রণোদিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। অভিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিতে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই বলে মনে করে টিআইবি।



সাতদিনের সেরা