kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিক হামলার শিকার বাংলাদেশিরা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নানা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামে দেশটির কৃষাঙ্গ অধিবাসীরা। আর তাদের এ আন্দোলনের নামে চলা ভাঙচুর, লুটপাটের শিকার হন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশটির ব্লুমফন্টেইনসহ আশপাশের এলাকায় গত কয়েক দিনে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে এমন তথ্যই মিলেছে।

জানা গেছে, পরিস্থিতি তুলে ধরে ঢাকায় বার্তা পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বাংলাদেশিরা ওই হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিলেন না। তবে আন্দোলনের সময় তাঁরা হামলার শিকার হন।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার নুর-ই হেলাল সাইফুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার প্রিটোরিয়া থেকে ব্লুমফন্টেইন সফর করেন। সে সময় তিনি ব্লুমফন্টেইন ও আশপাশে কৃষ্ণাঙ্গদের লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিরা তাঁদের সমস্যার কথা হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাইকমিশন অব্যাহতভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে দেশটির নাগরিকত্বও নিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশিরা মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। স্থানীয় অনেকের চেয়ে তাঁরা অনেকটা এগিয়ে গেছেন। আবার অনেকে সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক বিয়ে করেছেন। এসব কারণেও তাঁরা বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন।

জানা গেছে, গত ১৭ মে ফ্রি স্টেট প্রদেশের ব্লুমফন্টেইনসহ আশপাশের এলাকায় কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল কৃষাঙ্গ আফ্রিকানরা। সেই বিক্ষোভ থেকে বিদেশি মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনই অন্তত ১৭টি বিদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে বেশ কয়েকজন। গত কয়েক দিনে এই ধারা অব্যাহত ছিল। আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে কিছুদিন পর পরই নানা ছুতায় অভিবাসীদের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ের নামে লুটপাট হচ্ছে অভিবাসীদের প্রতিষ্ঠান। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের অনেকে চাকরিবাকরি বা কাজকর্ম করার চেয়ে অপরাধমূলক তৎপরতায় বেশি আগ্রহী। এ ছাড়া কভিড মহামারির কারণে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বেকার হয়ে গেছে। লুটপাটে তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।



সাতদিনের সেরা