kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ক্লাসে ফেরায় প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ক্লাসে ফেরায় প্রতিবাদ

আবরার হত্যায় জড়িত থাকায় আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্র বিটু ক্লাসে ফেরার প্রতিবাদে বুয়েটে মানববন্ধন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটু ক্লাসে ফেরার প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন, বুয়েট প্রশাসন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি না রাখলে আগামী ৩০ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে তাঁরা বাধ্য হবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলী আহমেদ মুয়াজ।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আশিকুল ইসলাম বিটুসহ ২৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় আশিকুলকে আসামি করেনি পুলিশ।

বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আশিকুলের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুয়েট কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেন। আশিকুল ওই স্থগিতাদেশ নিয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ গত ৪ এপ্রিল তাঁকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়। এরপর আশিকুল ইসলাম কেমিকৌশল বিভাগের লেভেল-৩ টার্ম-১-এর অন্তত চারটি কোর্সে নিবন্ধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মে বিটু একটি কোর্সের অনলাইন ক্লাসে অংশ নেন। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ক্লাসের সব শিক্ষার্থী তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক জুম ও টিমস অ্যাকাউন্টে ‘খুনির সঙ্গে ক্লাসে অংশগ্রহণ নয়’ লেখা প্রফাইল ছবি দেন।

প্রতিবাদের মুখে আশিকুল ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। আর শিক্ষার্থীরা আশিকুলের কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কেউ যাতে আর একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বিটুর সাথে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কোনো শর্তেই ইচ্ছুক নই। এই মর্মে বুয়েট প্রশাসনের কাছে আমরা দাবি উত্থাপন করেছি। আগামী ২৯ মে-এর মধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো কার্যকর না করলে বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ৩০ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে বাধ্য হব। আমাদের প্রত্যাশা, আগামী ২৯ মে-এর মধ্যে বুয়েট প্রশাসন তাদের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি অফিশিয়াল বিবৃতি বা নোটিশ আকারে প্রকাশ করবেন।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সে যে আবেদন করেছে তা অ্যাপ্রুভ হয়নি। আমরা যে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছি সে তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। উচ্চ আদালত তার বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেছে। সেটার রেসপেক্টেই আমাদের রেজিস্ট্রার অফিস তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দিয়েছে।’



সাতদিনের সেরা