kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হালদায় ডিম ছেড়েছে মা-মাছ

‘পানির লবণাক্ততা বাড়ায় কমেছে ডিমের পরিমাণ’

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হালদায় ডিম ছেড়েছে মা-মাছ

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় মা-মাছ ডিম ছেড়েছে। গত বুধবার রাত ১টার দিকে এই নদীর কার্প জাতীয় মা-মাছ (রুই, মৃগেল, কালবাউশ ও কাতল) পূর্ণাঙ্গরূপে ডিম ছাড়ে। আগের দুই দিন ছাড়ে নমুনা ডিম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ডিমের পরিমাণ কম। তাঁদের ধারণা, পানির লবণাক্ততা, দূষণ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ডিম কমে গেছে।

ডিম সংগ্রহকারী একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে ডিম ছাড়ার পর সংগ্রহ শুরু হয়। রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার ডিম সংগ্রহকারীরা পরের দিন ভোর ৫-৬টা পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেন। হালদা নদীর রামদাইশ্যা হাট, আমতুয়া, নাপিতের ঘোনা, আজিমের ঘাট, সিপাহীর ঘাট, গড়দুয়ারা, অংকুরীঘোনা, মাছুয়া ঘোনা, সত্তার ঘাট, কাগতিয়া,  পশ্চিম গুজরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাছের ডিম পাওয়া যায়।

মো. কাদের, আব্দুল কাদের ও আলী আকবর নামের কয়েকজন সংগ্রহকারী জানান, তাঁরা একেকজন তিন থেকে চার কেজি করে ডিম পেয়েছেন। সাইফুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন ‘এবার ডিম বেশি পাওয়া যায়নি। একেকজন দুই-তিন কেজি করে পেয়েছেন।’

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন ‘বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা-মাছ ডিম ছাড়তে থাকে। এর মধ্যে নয়াহাট এলাকায় একেকজন সংগ্রহকারী তিন-চার কেজি করে ডিম পেয়েছে বলে খবর পেয়েছি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘এবার মা-মাছ কী পরিমাণ ডিম ছেড়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। তবে এটা নিশ্চিত যে গত বছরের চেয়ে এবার ডিমের পরিমাণ কম। হালদায় লবণাক্ততা, ইঞ্জিনচালিত বোটের চলাচল, নদীদূষণসহ নানা কারণে ডিমের পরিমাণ কমে গেছে।’

এদিকে নদীতে মা-মাছের ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আইডিএফ) ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির ১৮ শিক্ষার্থী। প্রস্তুত ছিলেন দুই উপজেলা প্রশাসন ও নৌ পুলিশের ১২ সদস্য।



সাতদিনের সেরা