kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা, কিশোর গ্রেপ্তার

কালিয়াকৈরে পৃথক ঘটনায় স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। গতকাল উপজেলার বাশাকৈর এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত কিশোর (গৃহবধূর স্বামীর মামাতো ভাগ্নে), গৃহবধূর স্বামী এবং মামাতো ভাগ্নির স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর (১৯) বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সিলিমনগরে। তিনি বাশাকৈর এলাকায় একটি বাসায় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। তাঁর স্বামীর বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার কম্বলপাড়া এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার গুল্লাহ এলাকার এক কিশোর (১৬), জেলার মির্জাপুর থানার চানপুরের আব্দুল হকের ছেলে গৃহবধূর মামাতো ভাগ্নির স্বামী আরিফ হোসেন (২৫) এবং গৃহবধূর স্বামী রাসেল হোসেন (২৪)।

অন্যদিকে গতকাল উপজেলার মৌচাক এলাকায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার খবর শুনে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর ‘সাবেক’ স্বামী নওগাঁর সদর থানার মুকরামপুর এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে রতন আলীকে (৩৩) আটক করা হয়েছে।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী পাশের বাশাকৈরে লিয়াকত হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর কলহ থামেনি। এ সুযোগে ভাড়া বাসার পাশের বাড়ির এক কিশোরের সঙ্গে গৃহবধূর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। সর্বশেষ পাঁচ দিন আগে ঝগড়া করে স্বামী রাসেল ভাড়া বাসা থেকে বাবার বাড়ি চলে যান। আর গৃহবধূ বাসায় একা থাকার খবর পেয়ে কিশোর গত সোমবার দুপুরে তার এক মামার বাড়িতে (গৃহবধূর বাসার পাশে) আসে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে কিশোরের মামার বাড়ির লোকজন খাবার শেষে নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু কিশোর ও গৃহবধূ ঘুমাননি। তারা দুজনে গভীর রাতে কিশোরের মামার বাড়ির পাশে কাঠের ঘরে ঢোকে। এ সময় কিশোর গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। গৃহবধূ ঘটনাটি সকালে সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলে জানান। এ কথা শুনে কিশোর ক্ষেপে যায় এবং একটি কাঠের টুকরা দিয়ে গৃহবধূর মাথায় আঘাত করে। এতে গৃহবধূ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর কিশোর গৃহবধূর গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গৃহবধূর ভাড়া বাসার পাশে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। পরে সে কাঠের ঘরেই শুয়ে পড়ে। পরের দিন সকালে গৃহবধূকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন কিশোরের মামারা। এক পর্যায়ে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জঙ্গলে গৃহবধূর ওড়না পেলে সন্দেহ হয় কিশোরের মামার। পরে তিনি তাঁর কাঠের ঘরে গিয়ে রক্ত এবং কিছু টেনে নেওয়ার দাগ দেখতে পান। ওই দাগ ধরেই তিনি গৃহবধূর বাসার সেপটিক ট্যাংকে উঁকি দিয়ে গৃহবধূর লাশ দেখতে পান।

অন্যদিকে চার মাস আগে নওগাঁর মুকরামপুরের মুনসুর আলীর ছেলে রতন আলীর সঙ্গে একই জেলার পত্নীতলা উপজেলার গোটিল এলাকার আকবর আলীর মেয়ে আর্জিনা আক্তারের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা জীবিকার খোঁজে কালিয়াকৈরে আসেন। কিছু দিন ধরে তাঁদের পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে গতকাল সকালে আর্জিনা রতনকে তালাক দেন। বিষয়টি কাজি আর্জিনার স্বামীকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হন। পরে তিনি মৌচাক এলাকায় গিয়ে আর্জিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন রতনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় এবং আর্জিনাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।



সাতদিনের সেরা