kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়াই দেশে ঢুকছেন ভারতের ট্রাকচালক ও সহকারীরা

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ভারতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সীমান্ত বন্ধ (সিলগালা) করেছে বাংলাদেশ সরকার। পাসপোর্টে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় আটকে পড়াদের দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় ট্রাকের চালক ও তাঁদের সহকারীদের (হেলপার) করোনা নেগেটিভের সনদ অথবা ভ্যাকসিন গ্রহণের কার্ড ছাড়াই বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে করোনার ভারতীয় ধরন (ভেরিয়েন্ট) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে বন্দরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

হিলি স্থলবন্দরে ১৪ মাস পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বন্ধ ছিল। চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের গত ১৯ মে থেকে হিলি বন্দর দিয়ে দেশে আনছে সরকার। দূতাবাসের ছাড়পত্রসহ সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখার পর তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। পরে তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা জানান, হিলি বন্দর দিয়ে যেসব ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে চালক ও সহকারীরা দেশে ঢুকছেন তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি তেমন অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের করোনা নেগেটিভের সনদপত্র বা ভ্যাকসিন গ্রহণের কার্ড দেখাতে হচ্ছে না। এমনকি তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশকালে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাঁরা বাংলাদেশে মালপত্র খালাস করা পর্যন্ত দু-তিন দিন অবস্থান করছেন। পানামা পোর্টে ঢুকে দেশের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সঙ্গে ঘোরাফেরা ও মেলামেশা করছেন। এতে ভারতীয় চালক ও সহকারীর মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এমন অবস্থায় গত সোমবার দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন করোনার ভয়াবহতা প্রতিরোধে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ তথা আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপে ৩১ মে থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণের কার্ড, করোনা নেগেটিভের সনদ প্রদর্শনসহ বাংলাদেশে প্রবেশের সময় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয় ভারতের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক ঢুকতে দেওয়া হয়।

মেয়র জামিল হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত ভারতে করোনার প্রভাব বাড়ছে, যা বেশ আতঙ্কের। তাই ভারতীয় ট্রাকের চালক ও সহকারীদের করোনা টিকার কার্ড বা নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে ঢুকতে এক মাস আগে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। তাই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৩১ মে থেকে চালকদের করোনা টিকার কার্ড বা নেগেটিভ সনদ বা দেশে প্রবেশের সময় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না করলে আবারও বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান জানান, গত কয়েক দিনে হাকিমপুর উপজেলায় ভারতফেরত একজন পুরুষ যাত্রীসহ ছয়জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বন্দরসংশ্লিষ্ট একজন এবং অন্যরা স্থানীয় বাসিন্দা।



সাতদিনের সেরা