kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

মধুখালী-মাগুরা রেললাইন

নির্মাণকাজের উদ্বোধন আজ

‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ও উদ্বোধন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফরিদপুরের মধুখালী থেকে মাগুরা সদর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এ ছাড়া এদিন সুলভ মূল্যে আম পরিবহনের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত রবিবার মধুখালী থেকে মাগুরা সদর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের জন্য চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে মাগুরা জেলার রেল সংযোগ স্থাপিত হবে।

মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ১৯.৯০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হবে এক হাজার ২০২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই রেলপথে কামারখালী ও মাগুরায় দুটি নতুন স্টেশন হবে। দুটি স্টেশন ইয়ার্ডে ৪.৯ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। এই পথে ২৮টি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়া সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। রেলওয়ে একসময় অবহেলিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলকে গুরুত্ব দিয়ে ২০১১ সালে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছেন। রেলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

এদিকে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালু হলে এক টাকায় এক কেজি আম আসবে ঢাকা। রহনপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে ঢাকা পর্যন্ত আবার ঢাকা থেকে রাজশাহী হয়ে রহনপুর পর্যন্ত দুই ট্রিপে একটি ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে।

রেল ভবন সূত্রে জানা যায়, ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনটি রহনপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে ঢাকা এলেও ফেরার পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থামবে না। প্রতিদিন দুপুর ২টায় রহনপুর এবং বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ২টায় আমবাহী ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছবে। আবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে রহনপুরে পৌঁছবে দুপুর ১টায়। রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আমনুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথের জন্য প্রতিকেজি আম পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। আর রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৩৪৩ কিলোমিটার পথের জন্য প্রতিকেজি আমে ভাড়া দিতে হবে এক টাকা ১৭ পয়সা। এই ট্রেনে মোট পাঁচটি বগি থাকে। প্রতিটি বগির ৪৩ টন ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে আম ভালো থাকার দিক বিবেচনা করে ১৫০ টনের মতো আম পরিবহন করা হবে।

নূরুল ইসলাম সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেল শুধু ব্যবসা করার চিন্তা নয়, আমরা মানুষকে সেবাটাই দিতে চাই। বাসে আম আনতে হলে প্রতিকেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো। অথচ আমরা এই সেবা চালু করার পর থেকে তা ১৩ টাকায় নেমে এসেছে।’  তিনি বলেন, ‘এই বিশেষ ট্রেনে আমকে গুরুত্ব দেব। তবে ট্রেনে যদি জায়গা থাকে, তাহলে অন্য কৃষিপণ্য আনার সুযোগ থাকবে। চাহিদা বাড়লে ট্রেন বাড়ানো যেতে পারে।’



সাতদিনের সেরা