kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওয়েবিনারে বক্তারা

ইসরায়েলি বর্বরতার নিন্দা করে না পশ্চিমা দেশগুলো

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকায় গতকাল বুধবার এক ওয়েবিনারে বক্তারা ফিলিস্তিন সংকট সমাধান না হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মানবতার কথা বললেও ইসরায়েলি বর্বরতার নিন্দা জানায় না বরং অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) অধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি নৃশংসতা : কোথায় মানবতা?’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

এতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ফিলিস্তিনে ভবিষ্যৎ সহিংসতা মোকাবেলায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিতে অবিলম্বে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সব প্রচেষ্টার মূল বিষয় হওয়া উচিত।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নৃশংসতা ও অপরাধের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন ও সংহতি সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে সোচ্চার ছিলেন।’

এনএসইউর স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের (এসএইচএসএস) ডিন অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন, ক্যাম্প ডেভিড অ্যাকর্ড ও অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার মতো বিভিন্ন শান্তি আলোচনা হয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে সমর্থিত ইসরায়েল প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে এই সংঘাতকে আরো তীব্র করে তুলেছে। ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়ন করার সময় ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর পশ্চিমাদের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা হলেও কমেছে। বিশ্ববাসীকে এই সংকটটিকে শুধু মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখার চেয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।

ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের নৃশংসতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার অবহেলিত হয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই প্রশ্ন করেন, ‘মানবতা আজ কোথায়?’ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্ভাব্য ন্যায়বিচারের অভাবে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। গত তিন দশকে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কিছুই দেয়নি। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা সব সময় মানবতার কথা বললেও তারা ইসরায়েলি হামলার কোনো নিন্দা করে না বরং অস্ত্র দিয়ে আরো সাহায্য করেছে।

এনএসইউতে এসআইপিজির প্রফেসরিয়াল ফেলো ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বলেন, এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুটি শুধু মুসলমান হিসেবে নয় বরং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোনো ব্যক্তিই ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম ও দুর্দশা উপেক্ষা করতে পারবে না।

ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউর সহযোগী অধ্যাপক এবং সিপিএসের সদস্য ড. বুলবুল সিদ্দিকী। এসআইপিজির পরিচালক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক এম হক ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন। এতে শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বিষয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশ নেন।



সাতদিনের সেরা