kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

ঢাবি শিক্ষার্থী মাসুদের মৃত্যু

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাবি প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যু ঘিরে অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর মিলছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এও বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দূরত্ব খুবই সামান্য। মাসুদকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো এ মৃত্যু এড়ানো যেত।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগ থানার ওসি মো. মামুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের অনেক বন্ধু-বান্ধবসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মামুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।’ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে অনেক কিছু বলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকৃত ঘটনা জানতে কাজ করছে বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আলাদাভাবে কাজ করছে। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। যেহেতু মৃত্যুঘটিত বিষয়, সেহেতু বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানার জন্য আন্তরিকভাবে কমিটি কাজ করছে।

এদিকে মাসুদের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি মাসুদের মেয়েবন্ধুর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। এ নিয়ে হতাশ ছিলেন তিনি। ঈদের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ক্যাম্পাসে আসার পর কার্জন হল এলাকায় সন্ধ্যায় আড্ডা দেন। এক পর্যায়ে সেই রাতে ওই মেয়েবন্ধুর সঙ্গে মোবাইলে মাসুদের কথা হয়। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মাসুদের কলহ চলছিল বলে বন্ধুরা জানিয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মাসুদ যে ডাব বিক্রেতার দা দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করেছিলেন বলা হচ্ছে, সেই আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে গতকাল কথা হয় কালের কণ্ঠ’র। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিষ খেয়ে মরে, গলায় ফাঁস দিয়ে মরে, কিন্তু নিজেকে নিজে জবাই করে মারে—এই ধরনের ঘটনার প্রথম সাক্ষী হলাম।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাত ৮টার দিকে আমার দোকানে আসেন তিনি (মাসুদ)। কাস্টমারকে ডাব কেটে দা রেখে মগ নিয়ে ডাবের পানি ঢালছি। সেই সময় বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি দা গলায় ধরে কাটার চেষ্টা করছে। আমি প্রথমে ভাবছি আমাকে বোধ হয় ভয় দেখানোর জন্য এ রকম করতেছে। কারণ মাঝেমধ্যেই আমার দোকানে স্থানীয়, ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্ত ছেলেপেলে আসে। ফাও ডাব খেতে চায়। ভয়ভীতি দেখায়। আমি এই ধরনের ছেলে মনে করেছি। যখন রক্ত ঝরছে তখন আমি থাবা দিয়ে তার হাত থেকে দা ফেলে দিই। এরপরে সে আমাকে ‘ক্ষমা করো, আমাকে ক্ষমা করো’ বলে বহির্বিভাগের গেটের দিকে চলে যায়। আর দেখি নাই। পরে শুনেছি, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু মারা গেছে।”



সাতদিনের সেরা