kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ

যাত্রীর চাপ থাকলেও ফেরি পারাপার নির্বিঘ্ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ রুটে আগের দিনের মতো গতকাল শনিবারও ছিল যাত্রীদের ঢল। গতকাল সকাল থেকেই দুই পাশের ঘাটে রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়ে ব্যক্তিগত যানবাহনেরও। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যাত্রী পারাপার করানো হলেও ফেরি সংকট না থাকায় যাত্রীদের তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে অনেকেই।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে যেসব ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে আসে, তাতে তেমন কোনো যানবাহন দেখা যায়নি। প্রায় সব ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তবে কিছু ডাম্প ফেরিতে মালবাহী ট্রাক ও কিছু ছোট ছোট যানবাহন পার হতে দেখা গেছে। রো রো ফেরিগুলো বাংলাবাজার ঘাট থেকে শুধু যাত্রী নিয়েই শিমুলিয়া ঘাটে আসে। বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রীর চাপ থাকলেও ফেরি সংকট না থাকায় যাত্রীদের তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। তবে শিমুলিয়া ঘাটে বরাবরের মতো বাস না চলায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। যাত্রীর থেকে যানবাহনের সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে শিমুলিয়া ভাঙার মোড় থেকে যানবাহনে চড়েছে। যদিও এতে কয়েক গুণ ভাড়া বেশি গুনতে হয়েছে।

পটুয়াখালীর যাত্রী রফিকুল ইসলাম ঈদ শেষে গতকাল ঢাকায় ফিরছিলেন নিজ কর্মস্থলে। তিনি বলেন, ‘টাকা বেশি খরচ হলেও করার কিছুই নেই। তার পরও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পেরেছি এটাই বড় কথা। তবে ভালো হতো যদি ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ, সি-বোট ও বাস চলাচল করত। তবে এতটা টাকা খরচ হতো না।’

বরিশালের রাশেদুর রহমান বলেন, ‘ফেরিতে গাদাগাদি করে পার হয়েছি। এখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়েছে চরমভাবে। এর থেকে যদি বাস, লঞ্চ ও সি-বোট চলত তাতে লোকজনও যেমন চলাচল করে আরাম পেত, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণের তেমন ভয় থাকত না।’

বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল অনেক বেশি। বাংলাবাজার থেকে এসব যাত্রীকে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পার করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরিগুলো খালি গেছে বাংলাবাজার ঘাটে। ১৮টি ফেরি দিয়ে দিনভর যাত্রী পারাপার করা হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল আগের দিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ কিছুটা কম ছিল। চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া থেকে খালি ফেরি আনা হয়। এ ছাড়া বাংলাবাজার ঘাটে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ ছিল অনেক। ফেরিতে গাদাগাদি অবস্থা হলে তা নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে নজরদারি করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে শিমুলিয়া থেকেও অনেক যাত্রী দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাচ্ছে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও এদিন খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। যাত্রীরা সেখান থেকে ভ্যান, ইজিবাইকে চড়ে ঘাটে আসে। বাসসহ সব যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করে।

অ্যাম্বুল্যান্সচালক আহমেদ শরীফ বলেন, ‘রোগী নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকা যাব। সকাল ১০টার সময় ঘাটে এসে এখন দুপুর ২টা বাজে এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি।’

শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা