kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেয়র তাপস বললেন

এবারও ঢাকাবাসী ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবারও ঢাকাবাসী ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকবে

চলতি মৌসুমে ঢাকাবাসী ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল ডিএসসিসির নগর ভবনে গত এক বছরের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ‘উন্নত ঢাকার ভিত রচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত বছর ১৬ মে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ করেন তাপস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মস্পৃহা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আমাদের বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলাম এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে চলেছি।’

মেয়র বলেন, ‘আমাদের কর্মপরিকল্পনায় প্রথমেই আমরা জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং করোনা মহামারির মধ্যেও যাতে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই মশক নিয়ন্ত্রণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি। পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছি। ফলে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কিউলেক্স মশকের উপদ্রব কিছুটা বাড়লেও আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশাবাদী, গত মৌসুমের মতো এবারও ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হব।’

মেয়র আরো বলেন, ‘আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহকারীদের নিবন্ধন দিয়েছি এবং ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমার দায়িত্ব গ্রহণকালে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ছিল ২১টি। গত এক বছরে নতুন আরো ছয়টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। আর ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭৫টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব।’

মেয়র তাপস বলেন, ‘নতুন ১৮টি এলাকার কিছু অংশ বাদে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকায় এখন সড়ক বাতি জ্বলছে। ১৮টি ওয়ার্ডের যেসব এলাকায় সড়ক বাতি নেই নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সেখানে বাতি লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং আমাদের বিদ্যমান এলাকায় কোথাও সড়ক বাতি নিয়ে অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে মেয়র বলেন, ‘গত বছর খালের দায়িত্ব হাতে পেয়েই আমরা দুটি বক্স কালভার্ট ও চারটি খাল থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি। একই সঙ্গে কিছু খালের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলে থাকা জায়গা পুনরুদ্ধার করেছি। এ পর্যন্ত খাল ও বক্স কালভার্টগুলো থেকে আমরা ১০ লাখ টন পলি ও বর্জ্য অপসারণ করেছি। ফলে খালে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া আমরা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন করে চলেছি। এসব কার্যক্রম এই অর্থবছরে শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি। আমাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই বর্ষায় আমরা ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে বহুলাংশে মুক্তি দিতে পারব বলে আশা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা