kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সেলফি তুলতে গিয়ে লাশ

একই কবরস্থানে সমাহিত ৩ বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যমুনা নদীতে বেড়াতে গিয়ে লাশ হওয়া তিন বোন—প্রীতি, ঋতু ও ফাতিমাকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে রংপুর নগরীর তাজহাট শরীফিয়া কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

গত সোমবার গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান তাজহাট এলাকার তিন বোন। মঙ্গলবার ওই বাড়ির পাশে যমুনা নদীতে বেড়াতে যান তাঁরা। সেখানে সেলফি তুলতে গিয়ে পা ফসকে একজন পড়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও ডুবে যান। পরে তাঁদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার রাতে রংপুরের তাজহাট মোল্লাপাড়ায় সেলিমুল্লাহ হকের বাসায় পৌঁছে তিন বোনের মরদেহ।

গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, যেন শোকে মুহ্যমান গোটা এলাকা। বাড়ির উঠানে তিনজনের মরদেহ সারি করে রাখা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও আশপাশের এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ভিড় করছে শেষবারের মতো তাঁদের এক নজর দেখার জন্য। তিন বোনই সদালাপি ছিলেন উল্লেখ করে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন পার্শ্ববর্তী মাহিগঞ্জ এলাকা থেকে দেখতে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব খলিল মিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রীতি ও ঋতু এলাকার সবার সঙ্গেই মিশতেন, স্কুটিতে করে কলেজে যেতেন। বিশ্বাসই করতে পারছি তাঁদের সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা হবে না।’ 

বাকরুদ্ধ প্রীতি ও ঋতুর মা পান্না হক। বাবা সেলিমুল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার দুটিই মেয়ে। বড় আশা ছিল মেয়ে দুটিকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব। ওরা সরকারি প্রশাসনের ক্যাডার হতে চেয়েছিল। ওরা দুজনই আমার বুক খালি করে চলে গেল। এখন কাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখব।’

প্রীতি ও ঋতুর মামাতো বোন ফাতিমা। বাবা রানা মিয়া মারা গেছেন অনেক আগেই। মা মোরশেদা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে ফাতিমাকে বড় করছিলেন। মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে সরকারি অফিসার বানাবেন। তাঁর সেই স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়ে গেল। মেয়ের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন ফাতিমার মা মোরশেদা বেগম। কোনো কথাই বলতে পারেননি তিনি।



সাতদিনের সেরা