kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

এক দিনেই ৩৬ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ

রোহিঙ্গাদের জন্য জেআরপি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় প্রস্তাবিত ৯৪ কোটি ডলারের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বা জেআরপি) ঘোষণার দিনই ৩৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এটি চলতি বছরের জন্য প্রত্যাশিত তহবিলের এক-তৃতীয়াংশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেনেভায় ভার্চুয়ালি জেআরপি ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া গতকালের অনুষ্ঠিত চলতি বছরের জেআরপির জন্য তহবিলে প্রায় ২১ কোটি ডলার জোগান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া কানাডাসহ কয়েকটি দেশ আগেই তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যে অর্থ জোগাড় করা হবে তার পুরোটাই জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খরচ করা হবে। এই সংস্থাগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে তহবিল খরচ করতে পারে, সে জন্য বাংলাদেশ নিজেদের অর্থে সব ব্যবস্থা করবে।

গত বছর প্রস্তাবিত জেআরপির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৬১ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর থেকে এবার চতুর্থবারের মতো জেআরপি ঘোষণা করা হলো।

এদিকে গতকালের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘প্রত্যেকবার জেআরপি ঘোষণার সময় আমরা আশা করি, এটাই শেষ ঘোষণা হবে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে আবারও আরেকটি জেআরপি ঘোষণা করা হলো। এই মুহূর্তে আমার এবং অন্যদের মনেও এই প্রশ্ন এসেছে, কত দিন এই বোঝা আমাদের বহন করতে হবে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কত দিন এই বোঝা টেনে নিয়ে যেতে পারবে?’

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রত্যাবাসনকেই বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়াই হচ্ছে এর সমাধান। যেকোনো তহবিল সংগ্রহের সময় এই সমাধানের বিষয়টি সবার মনে রাখা উচিত। মানবিক সহায়তা দরকার কিন্তু এটি চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। জাতিসংঘসহ অন্যদের চিরস্থায়ী সমাধানের প্রতি নজর দিতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশগত ক্ষতি, বিশেষ করে ছয় হাজার ৮০০ একর বন নষ্ট হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য বসতি নির্মাণ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ঘনবসতি কমানোর জন্য সরকার নিজে ৩৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ভাসানচরে বসতি তৈরি করেছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার। এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার গেছে।’

ভাসানচর নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমাদের ইতিবাচক উদ্যোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং ভিন্নভাবে চিত্রিত করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্রয়াস এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে না। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ ও কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। আমরা আশা করি, জাতিসংঘ ভাসানচরে যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’