kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই ভাসানচরে

রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল গড়তে আজ বৈঠক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাসংকটে সাড়া দেওয়ার জন্য তহবিল গড়তে আজ মঙ্গলবার জেনেভায় বৈঠকে বসছে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বৈঠকে  চলতি বছরের জন্য ৯৪৪ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় আট হাজার চার কোটি ৪২ লাখ টাকা) তহবিল গঠনের চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় রোহিঙ্গাসংকট নিয়ে তাদের মনোভাব প্রকাশ পাবে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার গতকাল সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও সবচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। জেনেভায় আজ বিকেলে যখন ভার্চুয়াল বৈঠকটি শুরু হবে, তখন ওয়াশিংটন ডিসি সময় থাকবে ভোর ৪টা। তবু যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওই বৈঠকে অংশ নেবেন। এটি হবে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

জানা গেছে, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি ভাসানচরের জন্য। দাতা ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা যে ৯৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের যৌথ সাড়াদান কর্মসূচি (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান, সংক্ষেপে জেআরপি) প্রণয়ন করেছে, তা আট লাখ ৭৭ হাজার ৭১০ জন রোহিঙ্গা ও চার লাখ ৭২ হাজার দুজন স্থানীয় বাসিন্দার জরুরি মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ব্যয় হবে। জাতিসংঘের ৯টি সংস্থা, ৫৬টি আন্তর্জাতিক এনজিও ও ৬৯টি দেশীয় এনজিওর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ওই অর্থ প্রয়োজন বলে জানা গেছে।

এবারের জেআরপির কৌশলগত লক্ষ্য চারটি। এগুলো হলো রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা জোরদার করা, প্রয়োজনীয় মানসম্মত জীবনরক্ষাকারী সেবা প্রদান করা, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের কল্যাণ জোরদার করা এবং মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনে কাজ করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিচ্ছে।  

এদিকে জেআরপিতে বলা হয়েছে, ভাসানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার, দাতা সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘ এ ধরনের আলোচনায় বসতে সম্মত আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যে তহবিল সংগ্রহ করা হয় ভাসানচরের জন্য তার আনুপাতিক ভাগ চাইবে বাংলাদেশ। যেমন ভাসানচরে যদি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ১০ ভাগের এক ভাগ স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তহবিলেরও ১০ ভাগের এক ভাগ ভাসানচরে ব্যয় করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।



সাতদিনের সেরা